মিরপুরে ধর্ষণের পর গর্ভপাত \ কবর থেকে তুলে ডিএনএ সংগ্রহ

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক \ কুষ্টিয়ার মিরপুরে চাঞ্চল্যকর ধর্ষণের পর গর্ভপাতের ঘটনায় আদালতের নির্দেশে ওই নবজাতকের কবর থেকে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করেছে পুলিশ।
শুক্রবার দুপুরে মিরপুর উপজেলার মাজিহাট চকপাড়া এলাকায় ওই নবজাতকের মায়ের বাড়ির পার্শবর্তী স্থানে পুতে রাখা কবর থেকে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে পুলিশ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রকিবুল হাসান, মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালামসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
পুলিশ জানায়, গত ১৬ অক্টোবর কুষ্টিয়ার মিরপুর থানায় দায়ের করা বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ এবং গর্ভপাতের মামলার ঘটনায় মৃ শিশুটির বাবার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নির্দেশ দেন আদালত।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের মাঝিহাট গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা ও ভূমিহীন এক অসহায় নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ ধর্ষণ করে আসছিলো একই গ্রামের মৃত দাউদ মাষ্টারের ছেলে নুরুজ্জামান ওরফে পলাশ মোল্লা। এক পর্যায়ে ওই মহিলা অন্তঃস্বত্বা হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে ৮ মাসের অন্তঃস্বত্বা ওই নারীর গর্ভপাত ঘটানোর জন্য স্থানীয় এক ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ খাওয়ানো হয়।
গত ১৫ অক্টোবর দুপুরে নিজ বাড়িতে ওই নারী একটি মৃত মেয়ে শিশু প্রসব করেন। এ ঘটনায় ওই নারীর মা বাদী হয়ে পলাশ মোল্লাকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর শনিবার (১৭ অক্টোবর) ভোরে অভিযান চালিয়ে পলাশকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আসামিকে আদালতে সোপর্দ করলে ধর্ষণের ঘটনায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় নুরুজ্জামান ওরফে পলাশ মোল্লা।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার কুন্ডু জানান, মৃত শিশুটির বাবার পরিচয় নিশ্চিতে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মাটিচাপা দেয়া কবর থেকে নবাজাতকের মরদেহ তুলে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরে মরদেহটি আবার সেখানেই দাফন করা হয়।

Post a Comment

0 Comments