কুমারখালী শিলাইদহ বাজারে তৈরি হচ্ছে অবৈধ নছিমন, করিমন, ভটভটি

মোশারফ হোসেন \ কুমারখালী শিলাইদহ বাজারে  গড়ে উঠেছে অবৈধ যান নসিমন-করিমন তৈরির বেশ কয়েকটি কারখানা। পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব কারখানায় দেশীয় লোহা-লক্কর ব্যবহার করে অবাধে তৈরি হচ্ছে নসিমন-করিমনসহ অন্যান্য অবৈধ যানবাহন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ,  শিলাইদহ বাজারে ৫টি ওয়ার্কশপে দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হচ্ছে অবৈধ নসিমন-করিমন, আলমসাধু  ও ট্রলি সহ, অন্যান্য যানবাহন। মোটরযান আইন ও স্থানীয় প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙুলি দেখিয়ে অবাধে প্রস্তুত করা হচ্ছে জনজীবনের জন্য চরম হুমকি ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন। মোটরযান আইনে স্থানীয়ভাবে তৈরি এসব যানবাহনের কোনো বৈধতা নেই তার পরও তৈরি হচ্ছে অবৈধ নসিমন-করিমন। লোহার এঙ্গেল ও অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহারে চেসিস তৈরিকৃত এ যানবাহন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এ যানবাহনের ব্রেক সিস্টেম ও ইঞ্জিনের গতি তাৎক্ষণিক কমানোর যান্ত্রিক পদ্ধতিও ত্রুটিপূর্ণ। সেচকাজে ব্যবহার্য ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিন সংযুক্ত বেপরোয়া গতির এ যানবাহন অহরহ ঘটাচ্ছে দুর্ঘটনা। অপ্রাপ্তবয়স্ক কিংবা অদক্ষ চালকরাই এসব যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, ইট, কাঠ, পাথর, বালু, রড-সিমেন্ট ও অন্যান্য মামলামালসহ সড়ক-মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। দেড় থেকে আড়াই টন পর্যন্ত ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এসব যানবাহনের চালকের লাইসেন্স কিংবা গাড়ি চালনায় নেই কোনো দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি উপজেলাতে গড়ে ওঠা  ইটভাটায় ইট প্রস্তুতের মাটি ও কাঠ সরবরাহ এবং ইমারত নির্মাণে তৈরি ইট সরবরাহে অবৈধ এ যানবাহন ব্যবহার করা হচ্ছে। হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে মহাসড়কে এসব অবৈধ যানবাহন কীভাবে চলাচল করছে তা নিয়ে জনমনে রয়েছে নানা প্রশ্ন। ট্রাফিক পুলিশের কিছু অসাধু সদস্যকে অর্থের বিনিময়ে অবৈধ যানবাহন মহাসড়কে চলাচলের সুযোগ পাচ্ছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নসিমন-করিমনের চালকরা জানান। হাইওয়েতে চলাচলকারী এসব যানবাহনের কিছুসংখ্যক জব্দ করা হলেও অধিকাংশ অবৈধ গাড়ি টাকা দিয়ে ট্রাফিক পুলিশের কিছু অসাধু সদস্যরা আদায় করে। শিলাইদহ বাজারে আরিফ ওয়ার্কশপ, মিজান ওয়ার্কশপ, উজ্জ্বল ওয়ার্কশপ,  প্রতিমাসে ১০ থেকে ১৫ টি করে নসিমন-করিমন , বাটা হাম্বা তৈরি করে। এই বিষয়ে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার এস,এম তানভীর আরাফাত জানান, হাইওয়েতে যে সকল অবৈধ যানবাহন চলাচল করে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান ও তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। তবে সম্পূর্ণভাবে অবৈধ যানবাহন হাইওয়েতে চলাচল বন্ধে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তিনি জানান। জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন জানান, হাইওয়েতে কোনো অবৈধ যানবাহন চলাচলের সুযোগ নেই। অবৈধ যানবাহন প্রস্তুতকারক ওয়ার্কশপগুলোর বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে তিনি জানান।

Post a Comment

0 Comments