মিরপুরে যৌতুকের জন্য গৃহবধূ লিমা কে বর্বরোচিত নির্যাতন \ হাসপাতালে ভর্তি

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক \ কুষ্টিয়ার মিরপুরে যৌতুকের টাকার জন্য গৃহবধূ ও দুই জমজ পুত্র সন্তানের জননী লিমা খাতুন কে শারিরীক ভাবে বর্বরোচিত নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার(১৭-৯-২০) সকালে গৃহবধু লিমাকে স্বামী সাকিল , দেবর সাজিম, শ্বশুর হাসেম শ্বাশুড়ী শহনাজ মিলে বেদম প্রহার করে গুরুত্বর জখম করে আহত করেছে । এখন ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।আঘাতের যন্ত্রণায় ছটফট করছে লিমা খাতুন। ঘটনাটি ঘটেছে লিমা খাতুনের শ্বশুর বাড়ী কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার চিথলিয়া গ্রামে।
জানাযায়, আড়াই বছর হলো সাকিল লিমার বিয়ের বয়স। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে লিমা খাতুনকে তার স্বামী সাকিল সহ দেবর সাজিম,  শ্বশুর হাসেম ও শ্বাশুড়ী মিলে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করে আসছে। লিমা খাতুনের বাবা হযরত আলী  মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে ইতিমধ্যে এক লক্ষ ৯২ হাজার টাকা দিয়ে একটি মটরসাইকেল কিনে দেয়। কিন্ত এর পর আবারও ৮০হাজার টাকা দাবি করে। টাকা  না পেয়ে পরে আবারও  নির্যাতন শুরু করে। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বামী, দেবর, শ্বশুর,  শ্বাশুড়ি  মিলে বেদম প্রহার করে। পরে লিমা'র ভাই  তার বোন লিমাকে উদ্ধার করে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। লিমার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের ফোলা জখমের চিহ্ন রয়েছে বলে জানান, লিমার মা রাবেয়া খাতুন। লিমা খতুন মিরপুরের ধুবইল ইউনিয়ন'র লক্ষ্মীধরদীয়ার গ্রামের হযরত আলীর মেয়ে। লিমা'র মা রাবেয়া খাতুন জানান,  বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে মেয়ে লিমা খাতুনকে তার পাষন্ড স্বামী সাকিল ও তার ভাই সাজিম সহ শ্বশুর, শ্বাশুড়ী শারীরিক ভাবে নির্যাতন করার কারনে মেয়ের সুখের কথা ভেবে ১ লক্ষ ৯২হাজার টাকা দিয়ে মটরসাইকেল কিনে দিতে বাধ্য হয়েছি। এরপরও টাকা দাবী করছে। এরপরে বিভিন্ন সময় নানা কৌশলে দফাই দফাই টাকা নেয়ার জন্য মেয়েকে চাপ প্রয়োগ করে জামাই সাকিলসহ শ্বশুর বাড়ীর লোকজন।
আমরা গরিব মানুষ টাকা দিবো কি করে। আমার মেয়ে লিমার জমজ পুত্র সন্তানের মা হওয়ার কারনে আমার বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রেখে গিয়েছিল। এখন নিয়ে গিয়ে টাকা দাবি করছে। আমার লিমাকে মারধর করে দেখেন কি করেছে।
গৃহবধূ লিমা খাতুন জানান, বেশ কয়েকদিন ধরে আবারও ৮০ হাজার টাকা দাবী করে স্বামী তুহিন ও দেবর, শ্বশুর, শ্বাশুড়ী আমাকে মারপিট করতে থাকে। আমার বাবা গরিব তাই এই মূহুর্তে টাকা দিতে দিতে পারবে না বললে গতকাল আমাকে অমানুষিক ভাবে বেধরক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে ফেলে রাখে। সংবাদ পেয়ে আমার ভাই ও স্বজনরা উপস্থিত হয়ে আমাকে উদ্ধার করে। যৌতুকের দাবিতে নানা ভাবে নির্যাতন করা পাষন্ড স্বামী ও শ্বশুর বাড়ীর লোকেদের উপযুক্ত বিচারের দাবি করেন গৃহবধূ লিমা খাতুন। এবিষয়ে মিরপুর থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন তার ভাই।

Post a Comment

0 Comments