কুমারখালিতে যৌতুকের বলি চাঁদনী \ স্বামী ও শ্বশুর গ্রেফতার

মোশারফ হোসেন কুমারখালি \ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে প্রেম করে বিয়ের এক বছর নয় মাসের মাথায় স্বামী ও শ্বশুর বাড়ীর লোকজনের যৌতুকের দাবিতে শারীরিক নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে গৃহবধূ চাঁদনী খাতুন (২০) কে।  হত্যা মামলায় ঘাতক স্বামী আসাদুজ্জামান নিশান (২৬) ও শ্বশুর রিফাজ উদ্দিন শেখ (৫০) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে উপজেলার হাবাসপুর এলাকা থেকে আসামীদের গ্রেফতার করা হয়।এমামলায় আরো দুই আসামী শ্বাশুরী শিরিনা সুলতানা (৪৫) ও দাদী শ্বাশুড়ী পূর্ণিমা  খাতুন (৬০) পলাতক রয়েছে।
মামলার এজাহার ও নিহতের পরিবার সুত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর নয় মাস পূর্বে হাবাসপুর গ্রামের রিফাজ উদ্দিন শেখের ছেলে নিশানের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠেছিল উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের সাঁওতা গ্রামের শহিদুলের মেয়ে চাঁদনীর।এরপর পারিবারিকভাবে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক বিয়ে হয় তাদের।বিয়ের বছরখানেক পরই কোলজুড়ে আসে মেহেদী নামের এক ছেলে সন্তান। বয়স ৮ মাস।এরমাঝে ঘর সাজানো আসবাবপত্র ক্রয়ের জন্য নিয়মিত মোটা অংকের অর্থ দাবি করে আসছিল নিশান ও তার পরিবার।এরই জের ধরে গত ২২ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার দিবাগত রাত) রাতে চাদনীর স্বামী, শ্বশুর,শ্বাশুরী ও দাদী শ্বাশুড়ী চাঁদনীকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের পর বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ঘরের ডাবে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে রাখে।পরবর্তীতে চাঁদনীর পরিবারকে খবর না দিয়েই ঘাতকরা চাঁদনীকে প্রথমে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়েছে বলে নাটক সাজিয়ে বুধবার দুপুরে চাদনীর পরিবারকে খবর দেয়।
কুমারখালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, শ্বশুর বাড়ির লোকজনের যৌতুকের দাবিতে শারীরিক নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে চাঁদনীকে হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপার্দ করা হয়েছে। এমামলার আরো দুইজন আসামী পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতার করতে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এঘটনায় নিহতের বাবা শহিদুল শিশু ও নারী নির্যাতন ও যৌতুকের দাবিতে মারপিট করে হত্যার অভিযোগে কুমারখালী থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলা নং ২০, তাং- ২৪/০৯/২০২০ ইং

Post a Comment

0 Comments