এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় আনা হয়েছে ইউএনও ওয়াহিদাকে \ দুর্বৃত্তদের হামলা

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক \ সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমকে (৩৫) ঢাকায় আনা হয়েছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রংপুর থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৪৭ মিনিটে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে।
এর আগে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের সরকারি বাসভবনে সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত হন ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলী। ওয়াহিদা খানমকে হাতুড়িপেটা করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান তোফায়েল আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, তার মাথার বাম পাশে গুরুতর আঘাত রয়েছে। সেখানে দেবে যাওয়ায় ডান হাত ও পা অবশ হয়ে গেছে। এছাড়াও মাথার পানি গহব্বরে রক্তক্ষরণ হয়েছে। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে।
রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল ওয়াহাব জানান, এখনও হামলার কারণ জানা যায়নি। আমরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে ঢাকায় পাঠাচ্ছি। এই হামলায় কে বা কারা জড়িত তা তদন্তের পর জানা যাবে।
উল্লেখ্য, দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলীর উপর দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে ঘোড়াঘাট ইউএনও ও তার বাবার উপর সন্ত্রাসীর হামলার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম ও জেলা পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন ঘোড়াঘাট ইউএনও এর বাসভবন পরিদর্শন করতে ঘটনাস্থলে রয়েছেন।
জানা গেছে, গেলো রাত ৩ টার দিকে ইউএনও এর সরকারি বাসভবনের ভেন্টিলেটর ভেঙ্গে তার বাসভবনে প্রবেশ করে এ হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। উভয়ের শরীর ও মাথায় হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে সন্ত্রাসীরা।
ইউএনওর বাবা ওমর আলী প্রতিদিন সকালে হাঁটাহাঁটি করেন। কিন্তু আজ সকালে তিনি বাড়ি থেকে হাঁটার জন্য বের না হওয়ায় তার সঙ্গীরা খোঁজ নিতে বাড়িতে যায়। পরে বাড়িতে ডাকাডাকি করেও কোন সাড়া না পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে ইউএনও ও তার বাবাকে আহতাবস্থায় দেখে তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। ঘটনার সময় প্রহরীকে একটি ঘরে বেঁধে রাখা হয়েছিল।
এখন পর্যন্ত বাড়ির কোন কিছু খোয়া গেছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ধারনা করা হচ্ছে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এই ঘটনা ঘটেছে।

Post a Comment

0 Comments