পরকীয়া প্রেমিককে হত্যা \ দেবর-ভাবির যাবজ্জীবন

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক \ কুষ্টিয়ায় পরকীয়ার জের ধরে রনি ইসলাম নামে এক যুবককে হত্যার দায়ে দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদেরকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছর করে সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক অরূপ কুমার গোস্বামী এ রায় দেন।
দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন, দৌলতপুর উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের হায়দারের চর গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে সজিব হোসেন (২৬) এবং হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের তাজপুর গ্রামের আফাজ উদ্দিনের স্ত্রী সীমা খাতুন (৩৫)। দন্ডপ্রাপ্তরা সম্পর্কে দেবর-ভাবি।
আদালত সূত্রে জানা যায়, তাজপুর গ্রামের নাহারুল ইসলামের ছেলে রনি ইসলাম ২০১৮ সালের ২৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় সোনাইকুন্ডি বাজারে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি।
এরপর ২০১৮ সালের ১ ফেব্রæয়ারি বিকেলে চিলমারী ইউনিয়নের উদয়নগর চরে বালুর ভেতর পুঁতে রাখা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে দৌলতপুর থানা পুলিশ।
এ ঘটনায় হত্যা মামলা হলে দৌলতপুর থানা পুলিশের তদন্তে হত্যার রহস্য বেরিয়ে আসে। একই গ্রামের প্রবাসী আফাজ উদ্দিনের স্ত্রী সীমা খাতুনের সঙ্গে রনি ইসলামের পরকীয়া সম্পর্ক হয়। পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি জানাজানি হলে সীমা খাতুন কৌশলে রনি ইসলামকে উদয়নগর চরে ডেকে নিয়ে দেবর সজিব হোসেনের সহায়তায় তাকে হত্যা করে মরদেহ চরের বালুর ভেতর পুঁতে রাখেন। ২০১৯ সালের ১৫ জানুয়ারি এ হত্যা মামলার চার্জ গঠন করা হয়। ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালতের বিচারক আজ এ রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অনুপ কুমার নন্দী জানান, রনি ইসলাম হত্যা মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ফলে আদালতের বিচারক দেবর সজিব হোসেন ও ভাবি সীমা খাতুনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডসহ প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছর করে সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দিয়ছেন।

Post a Comment

0 Comments