যৌতুকের টাকার জন্য গৃহবধূ ইমা কে বর্বরোচিত নির্যাতন

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক \ যৌতুকের টাকার জন্য গৃহবধূ ইমা কে বর্বরোচিত নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল সকালে স্বামী তুহিন , দেবর শাহীন, শ্বশুড় ফজলুল হক শ্বাশুড়ি মিলে বেদম প্রহার করে গুরুত্বর জখম করে আহত করেছে।ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে আঘাতের যন্ত্রণায় ছটফট করছে নির্যাতিত ইমা।ঘটনাটি ঘটেছে নির্যাতনের শিকার ইমা খাতুনের শ্বশুর বাড়ী ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুর মাধবপুর গ্রামে।
জানাযায়, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে ইমা খাতুনকে তার বেকার স্বামী তুহিন সহ তার ভাই, দেবর শাহীন,  শ্বশুর ফজলুল হক ও শ্বাশুড়ি মিলে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ভাবে নির্যাতন শুরু করে আসছিলো।
ইমা খাতুনের বাবা ইদ্রীস মন্ডল মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে ইতিমধ্যে এক লক্ষ টাকা দিতে বাধ্য হয়। তারপর কিছু দিন ভালোই চলছিল।পরে আবারও টাকা দাবি করে নির্যাতন শুরু করে। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বামী, দেবর শ্বশুর  শ্বাশুড়ি  মিলে ঘরের দরজা লাগিয়ে দিয়ে বেদম প্রহার করে। পরে ইমা'র বাবা খবর পেয়ে মেয়েকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। ইমার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানান, হাসপাতালের নার্স ও ইমার মা। গুরুতর আহত অবস্থায়  ইমা খাতুন ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে। ইমা ভেড়ামারা বাহিরচর ইউনিয়ন'র ১২ দাগ গ্রামের ঈদ্রিস মন্ডলের মেয়ে।
ইমা'র বাবা ঈদ্রিস মন্ডল  জানান, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে মেয়ে ইমা খাতুনকে তার পাষন্ড স্বামী তুহিন ও তার ভাই শাহীন সহ শ্বশুর বাড়ীর লোকেরা শারীরিক ভাবে নির্যাতন করার কারনে মেয়ের সুখের কথা ভেবে ১ লক্ষ টাকা দিতে বাধ্য হয়েছি। পরে বিভিন্ন সময় নানা কৌশলে দফাই দফাই টাকা নেয়ার জন্য মেয়েকে চাপ প্রয়োগ করে শ্বশুর বাড়ীর লোকজন। সেই আবদারও সাধ্যমত পূরন করেছি আমি। গৃহবধূ ইমা খাতুন জানান,  বেশ কয়েকদিন ধরে আবারও  ৫০ হাজার টাকা দাবী করে স্বামী তুহিন ও দেবর শ্বাশুড়ি  আমাকে মারপিট করতে থাকে, আমার বাবা গরিব তাই এই মূহুর্তে টাকা দিতে দিতে পারবেনা বললে গতকাল বাড়ী থেকে আমার ৮ বছরের শিশু কন্যা তন্নীকে ও আমাকে বের হয়ে যেতে বলে তুহিন। আমি যেতে না চাইলে অবুঝ মেয়ে তন্নীর গলাই হাসুয়া বাধিয়ে ভয় দেখায়।  শ্বশুর ফজলুল হক। আমি প্রতিবাদ করতে গেলে দেবর শাহীন, স্বামী তুহিন ও শ্বশুর ফজলুল হক আমাকে অমানুষিক ভাবে বেধরক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। সংবাদ পেয়ে আমার বাবা ও স্বজনরা উপস্থিত হয়ে আমাকে উদ্ধার করে। যন্ত্রণায় ছটফট করা ইমা কথা বলতে পারছিল না।
যৌতুকের দাবিতে নানা ভাবে নির্যাতন করা পাষন্ড স্বামী ও শ্বশুর বাড়ীর লোকেদের উপযুক্ত বিচারের দাবি করেন গৃহবধূ ইমা খাতুন। মেয়ের নির্যাতনের বিষয়ে জনপ্রতিনিধিদের নিকট অবিহিত করে উপযুক্ত বিচার দাবি করেছেন ইমার বাবা ইদ্রীস মন্ডল।

Post a Comment

0 Comments