টাকা দিলেই মিলতো করোনার নেগেটিভ সনদ!

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক \ টাকার বিনিময়ে প্রায় দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে করোনার সনদ বিক্রি করে আসছিলেন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টেকনোলজিস্ট মাহফুজুর রহমান। এক মাস আগেই বিষয়টি টের পান সিভিল সার্জন অফিসের কর্মকর্তারা। সতর্ক করা হলেও কারবার চালিয়ে আসছিলেন তিনি। এদিকে গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে আসছে অনেক তথ্য। কারা কারা এ চক্রের সাথে জড়িত আছে তা নিয়ে চলছে তদন্ত।
মাহফুজুর রহমান মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারি টেকনোলজিস্ট। স্যাম্পল কালেকশন না করেই টাকার বিনিময়ে করোনার নেগেটিভ সনদ দিয়ে আসছিলেন তিনি।
মাহফুজুর রহমানের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিক ও কর্মচারীরা এসব সনদ নিয়ে প্রতিষ্ঠানে জমা দিয়ে চাকরিতে যোগদান করেন।
গত বুধবার ডিবি পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তারকৃত টেকনোলজিস্ট প্রাথমিকভাবে এসব তথ্য স্বীকার করেছে। মাহফুজুর রহমানের এমন কারবারের বিষয়টি জেলাজুড়ে আলোচিত। স্থানীয়রা বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, শুধু কুষ্টিয়া জেলায় নয়, আশেপাশের বিভিন্ন জেলার লোকজনকে তিনি এ সনদ সরবরাহ করে আসছিলেন। ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে এসব সনদ প্রদান করতেন তিনি।
এসব বিষয় এক মাস আগেই জানতে পারে সিভিল সার্জন অফিস। তখন তাকে সতর্ক করা হয়। এরপরও তিনি এ কারবার চালিয়ে আসছিলেন। তিনি দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে কতজনকে এমন সনদ দিয়েছেন তা জানার চেষ্টা চলছে।
কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। স্যাম্পল কালেকশন না করেই সে যে কাজটি করে আসছিল সেটি মহাঅন্যায়। তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভাগীয় মামলা হবে।
সিভিল সার্জন বলেন, ইতিমধ্যে তার বদলির অর্ডার এসেছে। তদন্ত চলছে বিষয়টি নিয়ে। কারা তার সাথে জড়িত তা খুঁজে বের করা হবে।
হাসপাতালের একটি সুত্র জানায়, টেকনোলজিস্ট মাহফুজুর রহমান ও একই হাসপাতালের বড় বাবু মাহবুবুর রহমান মিলে এ কাজ করে আসছিলেন। মাহবুবুর রহমানকে ইতিমধ্যে সাতক্ষীরায় বদলি করা হয়েছে।
এদিকে ভুয়া করোনা সনদ দিয়ে মানুষকে বিপদে ফেলার মতো কাজে যারা জড়িত তাদের খুঁজে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে তদন্তকারি পুলিশ কর্মকর্তা। বিষয়টি নিয়ে তারা মাঠে কাজ করছে। এ চক্রের বাকি সদস্যদের সামনে আনতে তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আব্দুর রহমান বলেন, মাহফুজুর যে কাজটি করেছে তা কঠিন অপরাধ। তার সাথে আরো কার কার যোগ আছে তা খুঁজে বের করা হবে। একইসাথে জেলার কোথাও যাতে এমন ঘটনা ঘটে সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
তিনি বলেন, পজেটিভ ব্যক্তি যদি নেগেটিভ সনদ নিয়ে কাজে যোগদান করে তাহলে সেখানে করোনা ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই মানুষের জীবন নিয়ে এ ধরনের প্রতারণা করা বড় অপরাধ।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৬ আগস্ট) অভিযান চালিয়ে মাহফুজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক ও পেন ড্রাইভ জব্দ করা হয়। বুধবার অভিযানের মধ্যেই মাহফুজের বদলি অর্ডার আসে।

Post a Comment

0 Comments