জনপ্রিয় জননেতা হিসাবে আর্বিভাবের পথে আহাদুজ্জামান রানা

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক \ আহাদুজ্জামান রানা শুধু একটি নাম নয়, একটি প্রতিভা। সে একজন লড়াকু যোদ্ধা, মুজিব আদর্শের সাহসী সৈনিক, জননেত্রী শেখ হাসিনা’র সোনার বাংলা গড়ার একজন ভবিষ্যৎ কান্ডারী, তরুন সমাজের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যুব রাজীনিতির একজন দক্ষ দিক নির্দেশক। ত্যাগী, সাহসী ও বিচক্ষন যুব নেতা, মুজিব দর্শন যার চিন্তা ভাবনা ও চর্চায় তার একমাত্র ধ্যানজ্ঞান, সমাজ সেবা যার কাছে দায়িত্ব ও কর্তৃব্য। তার স্বল্প সময়ের বনাঢ়্য রাজনীতিক ক্যারিয়ার তা জানান দেয়, সে মুজিব আদর্শের অকুতভয় একজন লড়াকু যোদ্ধাই শুধু নয়, তিনি আওয়ামী রাজনীতির একজন বিশ^স্ত্য ও পরীক্ষিত কর্মী। শোষিত, বঞ্চিত, নীপিড়িত জনতার যুব নেতা থেকে আগামীর জনপ্রিয় জননেতা জনদরদী হিসাবের আর্বিভাবের পথে শুরু হয়েছে তার পথ চলা। তরুন এই উঠতি যুব নেতা ইতিমধ্যে ভেড়ামারা উপজেলার আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীদের মন জয় করেছেন। তার মেধা, যোগ্যতা ও ভালোবাসা দিয়েই নয়, তার বড় গুণ কর্মীদের সাথে কর্মী হয়ে সহযোদ্ধা কর্মী হিসাবেই তাদের সাথে উঠাবসা, সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নেওয়ার অভাবনীয় একটি গুণ তার মধ্যে রয়েছে।
ছাত্র ও যুবকদের প্রিয় আহাদুজ্জামান রানা যখন সপ্তম শ্রেনীতে অধ্যায়নরত তখন বাংলাদেশের সর্ব বৃহত্তম ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগে যোগদানের মধ্যে দিয়ে তার রাজনীতির যাত্রা শুরু করেন সেই ১৯৮৯সালে। এতো অল্প বয়সে ছাত্র রাজনীতির প্লাটফরমে পদার্পন করাটা আশ্চর্যজনকও বটে। তবে তার দৈহিক গড়ন, মেধা, যোগ্যতা ও নেতৃত্বগুণাবলী এবং সদালপী ও অত্যান্ত মিশুক এই কটি গুণকেই তাকে ছাত্র রাজনীতির প্লাটফরমে দ্রæত নিয়ে গিয়েছিল। সেই সময় শহরে এবং কলেজ ছাত্রলীগের যতগুলো প্রোগ্রাম হতো তার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সে পৌর ছাত্রলীগ কমিটির একজন সদস্যও ছিল। অল্প দিনেই নিজের জাতকে চিনিয়ে দেয় বিজ্ঞ সিনিয়র নেতাদের। ১৯৯৩সালের ছাত্রলীগের উপজেলার সম্মেলনে কমিটি সদস্য নির্বাচিত হয়। এরপর ১৯৯৭সালে উপজেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক হিসাবে নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহন করার পর সন্ত্রাসীরা তার বসতবাড়ি ঘেরাও করে। এসময় তিনি ঢাকাতে নির্বাসনে চলে যান। ৫বছর তার জন্ম এলাকাতে আসতে দেয়নি বিএনপি’র পোষ্য গুন্ডাবাহিনী। ঢাকায় অবস্থান কালে তার রাজনীতি থেমে থাকেনি। সমগ্র বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির প্রাণ কেন্দ্র মধুর কেন্টিনে ছিল তার অবাধ যাতায়াত। এই চরম দূঃসময়ে সাহসের সাথে জীবনের মায়া তুচ্ছ করে মিছিল মিটিং, পিকিটিং সমস্ত ঘোষিত দলীয় কর্মসূচির মধ্যে নিজেকে আবদ্ধ রাখেন। তার সরব উপস্থিতি, তার মেধা, তার দুরদর্শী ভাবনা চিন্তার ফলে সে সিনিয়র নেতাকর্মীদের চোখে পড়েন। ঐ সময় ২০০৫সালে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসাবে মনোনীত হন। যা বাংলাদেশের অনেক ছাত্রলীগ নেতার এই সৌভাগ্যটুকু যোটেনি। নির্বাসনে থাকা ৫টি বছরের মধ্যে তার অসুস্থ্য বাবাকে একটি বারের জন্যও দেখতে মন চাইলেও আসতে পারেনি। তখন বিএনপি’র নেতারা আহাদুজ্জামান রানার ঢাকার রাজনীতির কর্মকান্ড’র সমস্ত কিছুই খোঁজ রাখতেন। সেজন্যই সে বিএনপি নেতাদের চক্ষুশূলে পরিণত হন। বিএনপি নেতার পক্ষ থেকে অনেক সুবিধা সম্বলিত লভোনীয় প্রস্তাব আহাদুজ্জামান রানাকে দেওয়া হলেও চরম দুঃসময়ে থাকা রানা পায়ে ঠেলে তা ঐ প্রস্তাব গুলো নির্বাসনে দিয়েছেন। বরং আরোও দূর্বার গতিতে আন্দোলন সংগ্রামে শরিক হয়েছেন। হুমকি-ধামকিতে তার মাথা নত করাতে পারেনি। আপোষহীন থেকে ৫টি বছর লড়াই সংগ্রাম’র মধ্যেই প্রতিটি দিন-রাত অতিবাহিত করেছেন। তিনি ২০০৪ সালে ঢাকার পার্টি অফিসের সামনে সমাবেশে তখনকার বিরোধী দলীয় নেত্রী, আজকের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র উপর গ্রেনেড হামলা হয়। সেই সমাবেশে আহাদুজ্জামান রানা উপস্থিত ছিলেন। ভাগ্য সহায় হয় তার, হামলার কিছু মুহূর্ত আগে ঐ সময় পাশেই এক চায়ের দোকানে চা খেতে যায়। ঐ সময়টাই গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে এসময় প্রচন্ড শব্দে প্রোকম্পিত হলে রানা মাটিতে পড়ে যায়, ভাগ্য সহায় হওয়ায় সে যাত্রায় প্রাণে বেঁচে যায় রানা, থাকেন অক্ষত। কিন্তু ঐ সমাবেশে মূল শ্লোগানদাতা বরিশালের মোস্তাক আহম্মেদ রানার পাশেই অবস্থান করছিল। সেই মোস্তাক আহম্মেদকে গ্রেনেড হামলায় চূড়ান্ত জখম অবস্থায় আহাদুজ্জামান রানা চরম সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পথেই রানার কোলের উপরই সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। সে ২০১৩ সালে কুষ্টিয়া জেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হয়। ২০১৪ সালে ভেড়ামারা উপজেলার যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক হিসাবে নির্বাচিত হন। ২০১৮সালের ১৬ই এপ্রিল সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। বর্তমানে যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। এসময় ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামীলীগের কর্মীদের মাঝে তার গ্রহনযোগ্যতা জ্যামিতিক হারে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দলের বাইরেও রয়েছে তার একটি বিশাল শক্তিশালী অবস্থান। সাধারন খেটে খাওয়া মানুষ এবং বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষের সাথে তার সম্পর্কটা নিবিড়। এটা গড়ে উঠেছে বিপদে এবং সংকটকালে তাদের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সুবিধা দিয়ে ধারাবাহিক ভাবে পাশে দাঁড়ানো।
করোনাকালের সময়টা চরম আতংক, উৎকন্ঠা ও মৃত্যু ভয়ে আতংকীত যখন সবাই। সারা দেশের মানুষের মতো ভেড়ামারা উপজেলাবাসী এই মরণব্যাধি করোনা ভাইরাসের থাবায় দিশেহারা। বাইরে বের হলে যেমন, এই রোগের আক্রমন, ঘরে থাকলে না খেয়ে মরার দশা। কি করবে নি¤œ শ্রেনীর মানুষেরা। এমন অবস্থায় জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে বেঁেচ থাকা অসহায় মানুষগুলো যখন দিশেহীন তখন আহাদুজ্জামান রানা চরম বিচক্ষনতার পরিচয় দিয়ে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। সেই সময় ২টি সাহায্য প্রকল্প হাতে নেয়, যার একটি দরিদ্রদের আর অপরটি সদ্য বেকার হওয়া অথবা বিশেষ অর্থকষ্টের মধ্যে পড়ে যাওয়া ভদ্র শ্রেনীর ব্যক্তিদের। রানা নিজে এই শ্রেনীর ব্যক্তিদের গোপনে সহযোগীতা করে গেছেন। যা আজও ভেড়ামারাবাসীর কাছে অজানা। দুঃস্থদের ত্রাণ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ কর্মী ও তার একান্ত বন্ধুদের হাতে বুঝিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু তিনি নিজেই দুর থেকেই তদারকি করেছেন। আহাদুজ্জামান রানার বিশেষ অনুরোধে “পিচ এন্ড স্মাইল” নামক দাতা সংস্থার নিকট ভেড়ামারা উপজেলার ৪০০ অসহায় পরিবারের মাঝে ত্রাণ দেন। এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিজ অর্থায়নে ১৫০০ দুঃস্থ ও অসহায় পরিবারের মধ্যে ৩ বার সর্বমোট ৪৫০০ পরিবারের মধ্যে এ ত্রাণ বিতরণ করা হয়। তিনি প্রত্যেক ঈদে উপজেলার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ওয়াডে বিশেষ কিছু অসহায় পরিবারকে শাড়ি, লুঙ্গি, পাঞ্জাবী, খাদ্য সামগ্রীসহ নগদ অর্থ বিতরণ করে চলেছেন।
আহাদুজ্জামান রানা বলেন, শোকের মাস সামনে ১৫ই আগষ্ট বঙ্গবন্ধুর শাহাদত বার্ষিকী। বাঙ্গালী জাতির প্রিয় নেতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট বাঙ্গালী, স্বাধীনতার মহান স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাচ্ছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারন করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করে জনতা, দেশ, দল’র সেবক হতে চায়। হতে চায় মুজিব আদর্শের একজন একনিষ্ঠ কর্মী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র সোনার বাংলা গঠনে ভূমিকা রাখতে চায়। আর এগুলোর জন্য মূল অক্সিজেনই হলো দেশের জনতা। জনতার জন্যই সব কিছু। আমার নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষকে ভালো রাখার জন্য আজীবন সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। আমি সেই পথেরই একজন কর্মী হতে চায়। রাজনীতিতে পদ পদবীই বড় কথা নয়। জনতাকে ভালোবাসলে, দলের কর্মীদের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ালে, স্বাধীনতার চেতনাও মুজিব আদর্শ ধারন করতে পারলে পদ-পদবীই তার পিছনে পিছনে দৌঁড়াবে। করোনাকালে আমার সাধ্যমত যতটুকু পেরেছি ততোটুকু মানুষকে সহযোগীতা করার চেষ্টা করেছি। তবে আমি যেটা করেছি সেটা হলো করোনা প্রতিরোধে মানুষের মধ্যে সচেতনা তৈরী করতে। লিপলেট, ব্যানার ও ফেসটুন তৈরী করে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করেছি। যার সুফল ভেড়ামারার জনতা দেখতে পাচ্ছে। বয়সে যদিও আমি তরুন, তবে রাজনীতির মাঠ ও ভোটের মাঠ সামলানোর ক্ষমতা আমার রয়েছে। দল যদি মনে করে এবং আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে আমি অবশ্যই নির্বাচনে অংশ গ্রহন করবো।
এই প্রতিবেদনটি তৈরী করার সময়, সময় স্বল্পতার কারনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সন্নিবেশ করা সম্ভব হয়নি। যতটুকু সম্ভব তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। বিঃদ্রঃ আহাদুজ্জামান রানা জন্ম তারিখ আগষ্ট মাসে হওয়ায় তার জন্মদিন উৎসবের মধ্যে পালন করেন না। তার এই মহান নেতার প্রতি ভালোবাসার নির্দেশনে সে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা পেতেই পারে।

Post a Comment

0 Comments