শেখ হাসিনার দেহরক্ষী খোকসার মাহাবুবের পরিবার দোষীদের সাজা বাস্তবায়ন দেখার

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক \ কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরের এই গ্রাম। পিচঢালা পাকা রাস্তার একটু দূরে শৌশবের ফুলবাড়ী প্রাইমারী স্কুলের পাশের কবর স্থানে শায়িত আছেন মাহাবুব। গ্রামের ছোট্ট বাজারটির মোড় পেরিয়ে উত্তরের পদ্মা নদীর দিকে কিছুটা এগিয়ে গিয়েই তার বাড়ি। এখানে থাকেন গ্রেনেড হামলায় নিহত দেহরক্ষীর বাবা হারুন অর রশিদ ও বৃদ্ধ মা।
সবার “বাবা” (ছেলে সন্তান) ঈদ উৎসবে বাড়ি আসে। কিন্তু আমার বাবা (মাহাবুব) ১৬ বছরে একবারও এলোনা। তবে আসে! স্বপ্নে, বৌমা‘রে সাথে নিয়ে আসে। ভালো ডাক্তার দেখানোর জন্য নিয়ে যেতে চায়। স্বপ্নতো দীর্ঘ সময়ের হয় না, আবার হারিয়ে যায়।
এভাবেই ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় নিহত (তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনার) দেহরক্ষী মাহাবুব রশিদের মা হাসিনা বেগম তার অনুভবের কথাগুলো জানালেন। ছেলের মৃত্যু বার্ষিকীর আগের দিন কুষ্টিয়ার খোকসার ফুলবাড়ী গ্রামে নিজের ঘরের দাওয়ায় বসে ছেলে সম্পর্কে বলছিলেন। এসময় আবেগঘন এক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
পাকা রাস্তা থেকে নেমে অন্যের বাঁশ বাগানের নিচে দিয়ে পায়ে হেটে কিছুটা এগিয়ে গেলেই চার চালা টিন সেডের বাড়ি। মৃত্যুর আগে এই ঘরটি বাবা মা’র থাকার জন্য মাহাবুব তুলে দিয়েছিলেন। অনেক টা শুনশান পরিবেশ। পড়ো বাড়ির অবস্থা। দরজায় হাকডাক ছেড়ে বাড়ির ভিতরের ঢুকে দেখা গেলে বৃদ্ধা যুগল তখন সকালের খাওয়া সারছেন। নিজের খাওয়া সেরে গরুগুলোর খাওয়াতে ব্যস্ত হয়ে গেলেন বৃদ্ধ হারুন অর রশিদ।
মা হাসিনা বসলেন দাওয়ায়। শারীরিক অবস্থা ভালো না। এখন আর বেশী ভাবতে পারে না। বুকের মধ্যে “ধরপর” করে ওঠে। খুব মৃদু স্বরে নিজের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির কথায় বলার চেষ্টা করলেন। নিহত ছেলের স্ত্রী তাদের খোঁজ খবর নিচ্ছে বলেও জানান। তবে নিহত মাহাবুবের দুই ছেলেকে নিয়েও তিনি স্বপ্ন দেখেন। তারা বড় হয়ে বাবার মুখ উজ্জ্বল করবে।
সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলে নিহত হওয়ার পর থেকে তিনি অপেক্ষায় আছেন- দোষীদের বিচার ও সাজা বাস্তবায়ন দেখার। কিন্তু তার সে আশা আর বাস্তবায়ন হচ্ছে না। বয়সের ভারে এখন আর বুক ভরে শ্বাস নিতে পারেন না। ছেলের মৃত্যুর পর তার শরীরে রোগ বাসা বেঁধেছে। বৃদ্ধা হাসিনা বেগমের কাছে কোন হিসাবই বড় না। তিনিও স্বামী হারুন অর রশিদের মত ছেলের সমাধির স্থল সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও কবরস্থানে বিদ্যুতের আলোর ব্যবস্থা করার দাবি জানান। টেলিভিশনে অভিযুক্তদের বিচারের খবর অনেকবার শুনেছেন। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগের কথা জেনেছেন কিন্তু তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তিনি রায় বাস্তবান দেখে মরতে চান বলেও জানান।
এবারেও ছেলের মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে নিজের বাড়িতে মিলাদ মাহফিলের ব্যবস্থা করেছেন গাভীর দুধ বিক্রি করে জমানো টাকায়। তিনি বলেন, প্রতিমাসে কল্যান ফান্ড থেকে যে টাকা দেওয়া হয় তা দিয়ে দু’জনের সংসার চলতে চায় না। তাই তিনি দুধ বিক্রির টাকা থেকে নিহত ছেলের মৃত্যু বার্ষিকীর জন্য কিছু টাকা জমিয়ে রাখেন।

Post a Comment

0 Comments