ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ


কুষ্টিয়া শহরের ঝাউদিয়া গ্রামে অবস্থিত প্রাচীন মুসলিম স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন ঝাউদিয়া মসজিদ। এই গ্রামের নাম অনুসারের প্রাচীন এই পুরাকীর্তির নামকরণ করা হয় ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ।

কুষ্টিয়া শহর থেকে প্রায় ২১ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং কুষ্টিয়া ঝিনাইদহ মহাসড়ক থেকে প্রায় ৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার সরাসরি পশ্চিমে অবস্থিত ঝাউদিয়া গ্রামে কয়েকশ বছরের পুরাতন এই মসজিদটি অবস্থিত। অনন্য প্রাচীন স্থাপত্যের মতো এই মসজিদের সাথেও জড়িত রয়েছে নানা কিংবদন্তী। মসজিদটি কে বা কারা নির্মাণ করেন, কোন শতকে নির্মাণ হয় তার নির্দিষ্ট কোন খোঁজ পাওয়া যায় নি। নানা মত আর নানা ধারণার প্রচলনের বাহিরেও এটা সত্য যে মসজিদটি তার প্রাচীনত্ব আর গাম্ভীর্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে শত বছর ধরে।

প্রায় হাজার বছর আগে ইরাক থেকে এ অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করতে আসেন শাহ সুফি আহম্মদ আলী ওরফে আদারি মিয়া। অনেকের মতে ইসলাম প্রচার করতে এসে তিনি এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। শাহ সুফীর পরিচয় নিয়েও রয়েছে ধন্দ। কুষ্টিয়া জেলা তথ্য বাতায়ন মোতাবেক শাহ সূফী আহমদ আলী ছিলেন মোগল সম্রাট শাহজাহানের আমলে ঝাউদিয়ার জমিদার।

মসজিদের গঠন শৈলী মতে মসজিদটি মোগল স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত হয়। এই মসজিদের নির্মাণশৈলী, পরিকল্পনা ও অলঙ্করণে বৈশিষ্ট্যের আলোকে মসজিদটির সাথে দিনাজপুরের ঘোড়া ঘাঁট দুর্গের মসজিদ ও নোয়াখালীর বজরা মসজিদের ঘনিষ্ঠ মিল রয়েছে। এছাড়াও মসজিদটি অলৌকিক ভাবে নির্মিত হয়েছে বলে সাধারণ মানুষের কাছে অনেক বেশি পরিচিতি পায়।

মসজিদটির সম্মুখে রয়েছে অজানা এক সমাধি। সাধারণ মানুষের ধারণা মতে সমাধিটি কোন এক সুফি সাধকের এবং এই সুফি সাধকই মসজিদটি নির্মাণ করেন।

ইট, পাথর, বালি ও চীনামাটির তৈরি মসজিদটি রেলিং প্রাচীরে ঘেরা। ছোট্ট এই মসজিদটির মেহরাব ও গম্বুজের ভেতরের অংশ ও দেয়ালে নানা রকম ফুল, লতাপাতা, ধনুক, বাঁকা কার্নিশ, টেরাকোটা, খোঁদাই ও আরব্য নকশায় অলঙ্কৃত। মসজিদটির বাহিরে চার কোণায় রয়েছে পার্শ্ব বুরুজ এবং সম্মুখে রয়েছে বারান্দা।

মসজিদটিতে মোট ৫ টা গম্বুজ রয়েছে। এছাড়া প্রবেশ পথে রয়েছে দুটি মিনার। চমৎকার স্থাপত্য নিদর্শনের এই মসজিদটিকে বাংলাদেশে পারস্যের মুরাকানা ডিজাইনের আদি নিদর্শন বলা হয়। ১৯৬৯ সালে এটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাতে নথিভুক্ত করা হয়েছিল।

Post a Comment

0 Comments