কুষ্টিয়া জেলার কোরবানির গরু ও ছাগল নিয়ে বিপাকে ৩৮ হাজার খামারি

মোশারফ হোসেন কুষ্টিয়া কুমারখালী। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কুষ্টিয়া  জেলায় খামার ও বাসাবাড়িতে কোরবানির জন্য প্রায় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার পশু প্রস্তুত করা হয়েছে।
জেলার কোরবানির জন্য এবার গরু প্রস্তুত ১ লক্ষ ৫ হাজার, ছাগল প্রস্তুত ৭০ হাজার। তবে করোনায় পশু পরিবহন, ক্রেতা সমাগম ও দাম ঠিকমতো পাবেন কিনা তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন খামারি ও বিক্রেতারা। সদকি  ইউনিয়নের দীঘির পাড়ার গ্রামের খামারি মাহাবুব হোসেন বলেন, ‘কোরবানির জন্য প্রায় ১৬ লাখ টাকা খরচ করে আমার খামারে ৯ টি ষাঁড় প্রস্তুত করেছি। করোনার মধ্যে এসব গরু কোথায় বিক্রি করবো বা ক্রেতা পাবো কিনা তা নিয়ে মহা দুশ্চিন্তায় আছি। প্রতি গরুর পেছনে প্রতিদিন ২৫০-৩০০  টাকা খরচ হচ্ছে।’ খামারি নাসিম কাজী জানান, প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ধার-দেনা করে তিনটি ষাঁড় প্রস্তুত করছি। এগুলো বিক্রি করে ঠিকমতো দাম পাবো কিনা, তার জন্য দুশ্চিন্তায় আছি। জগন্নাথপুর ইউনিয়নের আবুল কালাম খামারি বলেন বর্তমান সময়ে কুমারখালী তে গো-খাদ্যের দামও বেশি, তারপরেও পাঁচটি ষাঁড় প্রস্তুত করছি। ঠিকমতো দাম পাবো কিনা, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি। ১ লক্ষ টাকা র গরু ৬০ হাজার টাকা দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা গরু নিয়ে বিপাকে খামারি রা। নন্দলালপুর ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়ার খামারি শাহিন আহমেদ জানান, প্রতিবছর ঢাকা-চট্টগ্রামের বেপারিরা সরাসরি খামার থেকে গরু নিয়ে যায়। এ বছর গরু  নেওয়ার জন্য কেউ আসেনি । করোনার কারণে শেষ পর্যন্ত তারা আসবেন কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। যদুবয়রা গ্রামের রেজাউল হোসেন জানান, অনেক অর্থ ব্যয় করে ৮টি গরু প্রস্তুত করেছি। বাইরের পার্টি না পেলে স্থানীয় হাটে তুলতে হবে। সচেতন ক্রেতারা করনোর ভয়ে অধিকাংশই হাটে যাচ্ছে না এবং এবার মানুষের আর্থিক সংকটে রয়েছে।গরু গুলো আদৌ বিক্রি হবে কিনা, এ নিয়ে চরম উদ্বেগে আছি। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারি সজীব আহম্মেদ বলেন, ‘প্রতিবছর পার্শ্ববর্তী   আলাউদ্দিন নগর ও চরঙ্গী হাটে গিয়ে সরাসরি কোরবানির পশু বিক্রি করি। কিন্তু এ বছর করোনার কারণে সেভাবে গরুর হাটও বসবে বা ক্রেতা সমাগম কম, বুঝতে পারছি না। শেষ পর্যন্ত বিক্রি হবে কিনা তা নিয়ে উদ্বেগে আছি।’  তেবাড়িয়া আলম হোসেন  বলেন, ‘প্রতিবছর খুলনা, ঢাকা, রংপুর ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কোরবানির অনেক আগেই গরু বিক্রি করে থাকি। এ বছর ৮-১০টি গরু বিক্রির প্রতিশ্রুতি পেলেও বাকি ১০টি কোথায় বিক্রি করবো, এ নিয়ে চরম অনিশ্চতায় রয়েছি। কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা গরু নিয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.মো : সিদ্দিকুর রহমান জানান, জেলার ৩৮ হাজার ছোট বড় খামার রয়েছে। কুমারখালী তে গরু ২৮ হাজার, খোকসা ১৭ হাজার, কুষ্টিয়া সদর, ৪০ হাজার দৌলতপুর ২০ হাজার, ভেড়ামারা,৩০ হাজার, প্রতিবছরই আমরা খামারিদের যেমন হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেই, এবার কোরবানির আগে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রায় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। করোনা নিয়ে খামারি বা বিক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগের বিষয়টি যৌক্তিক। ক্রেতা ঠিকমতো না পেলে তাদের মধ্যে হতাশা দেখা দেবে। তারপরও স্বাস্থ্যবিধি মেনে জেলার বিভিন্ন স্থানে গরু-ছাগলের হাট পরিচালনার জন্য জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতর ও প্রশাসনের মাধ্যমে সচেতন করা হচ্ছে।‘করোনায় কোরবানির আগে পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি ক্রেতা-বিক্রেতারা কতটুকু মানবে তা নিয়ে আমরাও বেশ দুশ্চিন্তায় আছি। সেজন্য অনলাইনে গবাদি পশুর বিক্রির বিষয়েই সবাইকে উৎসাহিত করছি। এই পর্যন্ত ৫০ টি কোরবানির পশু  বিক্রয় করা হয়েছে অনলাইনে।

Post a Comment

0 Comments