আজ শুক্রবার করোনা ভাইরাসে ৫১ জনের মৃত্য

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক \ করোনাভাইরাসে দেশে মৃতের সংখ্যা আড়াই হাজার ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৫১ জনের মৃত্যুসহ এখন পর্যন্ত মোট দুই হাজার ৫৪৭ জন মারা গেছেন। এসময় রোগী শনাক্ত হয়েছে ৩০৩৪ জন।
শুক্রবার করোনা সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।
দেশের ৮০টি ল্যাবে মোট নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৩ হাজার ৪৬০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো ১০ লাখ ৬ হাজার ৭৫১টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও তিন হাজার ৩৪ জনের মধ্যে। ফলে শনাক্ত করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল এক লাখ ৯৯ হাজার ৩৫৭ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ৫১ জন। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৫৪৭ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও এক হাজার ৭৬২ জন। এতে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল এক লাখ আট হাজার ৭২৫ জনে।
গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ৪০ জন ও নারী ১১ জন। এদের মধ্যে ২০ বছরের বেশি বয়সী একজন, ত্রিশোর্ধ্ব তিনজন, চল্লিশোর্ধ্ব ৭ জন, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১৫ জন, ষাটোর্ধ্ব ১২ জন, সত্তরোর্ধ্ব ১১ জন এবং ৮০ বছরের বেশি বয়সী দুইজন রয়েছেন।
সবশেষ তথ্যানুযায়ী, দেশে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২২.৫৪ শতাংশ, শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১.২৮ শতাংশ এবং সুস্থতার হার ৫৪.৫৪ শতাংশ।
বরাবরের মতোই বুলেটিনে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়।
উল্লেখ্য, চীনের উহান থেকে করোনা গত ছয় মাসে বিশ্বের ২১৫টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। চীনে করোনার প্রভাব কমলেও বিশ্বের অন্য কয়েকটি দেশে মহামারি রূপ নিয়েছে। দেশে করোনা সংক্রমিত প্রথম রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। তার ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।
করোনায় মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। উপসর্গগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মত। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে ডেকে আনতে পারে মৃত্যু।

Post a Comment

0 Comments