অসহায় ও দুঃস্থ্যদের ভরসা’র নাম করোনাজয়ী আলহাজ্ব আব্দুল হান্নান


চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক \ বৈর্শ্বিক মহামারী নোবেল করোনা ভাইরাস এর কবলে সারা পৃথিবীর মানুষ আজ জর্জরিত। আক্রান্ত’র সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে, এই ভাইরাস ছোঁয়াচে হওয়ায় মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে দ্রæত ছড়িয়ে পড়ছে। পৃথিবীর প্রভাবশালী ব্যক্তি থেকে শুরু করে সাধারন মানুষ লড়াই করছে অদৃশ্য এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে। করোনাকালে অনেকেই রাজনৈতিক, সামাজিক, ব্যবসায়ীক কর্মকান্ডের পরিধি কমিয়ে নিয়ে এসেছে অথবা চার দেওয়ালের মধ্যে নিজেকে আবদ্ধ করে রাখছে। ঠিক সেই মুহুর্তে সবার প্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব দুঃস্থ্য অসহায়দের কাছে একমাত্র ভরসার নাম বিশিষ্ট ঠিকাদার ও সমাজসেবক এবং জনদরদী করোনা জয়ী আলহাজ¦ আব্দুল হান্নান। করোনাকালীন সময়ে তিনি এইসব অসহায় ও দুঃস্থ্য মানুষের দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিয়ে তাদের মাঝে ছুটে চলেছিলেন অবিরত। করোনাকালে গরীব ও অসহায় মানুষের যখন দুমুঠো খাবার জুটছে না, তখন তিনি ত্রাণ নিয়ে পৌছে গেছেন প্রত্যেকের দুয়ারে দুয়ারে। তিনি মরণব্যার্ধী করোনা ভাইরাসের কাছে ভীতু না হয়ে অবলীলায় মিশেছেন সবার সাথে। তার ভূমিকা ছিল ফ্রন্টলাইনার একজন করোনা যোদ্ধা হিসাবে।

মানুষ মানুষের জন্যে, জীবন জীবনের জন্যে, একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না, ও বন্ধু? মানুষ মানুষকে পন্য করে, মানুষ মানুষকে জীবিকা করে.......পুরোনো ইতিহাস ফিরে এলে লজ্জা কি তুমি পাবে না, ও বন্ধু? ভুপেন হাজারিকার গানের এই আহবানে মিশে মানুষের জন্য কাজ করছেন অনেকেই, আর এই অনেকের মধ্যেই আছেন আরও একজন তিনি হলেন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার বিশিষ্ট্য ঠিকাদার ও সমাজসেবক এবং জনদরদী ও অসহায় মানুষের বন্ধু করোনা জয়ী আলহাজ¦ আব্দুল হান্নান। তিনি মানুষ হয়ে মানুষের জন্যে কাজ করেছেন এবং করে যাচ্ছেন।

তিনি মানুষকে সহানুভূতি দিয়েছেন ও দিচ্ছেন। তিনি যেভাবে দুঃস্থ্যদের পাশে দাড়ানোর সাহসিকতা দেখিয়েছেন, এটাই অনেক বিত্তশালীদের লজ্জা দিয়েছেন। অনেক আগে থেকেই অসহায় ও দুঃস্থ্যদের ভরসার কেন্দ্র বিন্দুতে ছিলেন বিশিষ্ট্য ঠিকাদার ও সমাজসেবক করোনা জয়ী আলহাজ¦ আব্দুল হান্নান। করোনাকালীন দূঃসময়ে ওতোপ্রোতোভাবে অসহায় ও দুঃস্থ্য অভাবী মানুষের পাশে ছিলেন। এখনও তাদের পাশে থেকে সাহায্য সহযোগীতা করে যাচ্ছেন। এই বিশিষ্ট্য ঠিকাদার ও সমাজসেবক গত ১৬ই জুন অসুস্থ্য বোধ করলে তার নমুনা পরীক্ষায় ২৩শে জুন করোনা পজেটিভ রেজাল্ট আসে। এসময় তিনি তার নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে চলে যান।

আইসোলেশনের মধ্যে থেকেও তিনি পরোক্ষভাবে দুঃস্থ্য ও অসহায়দের সহযোগীতা করে গেছেন। ১৬দিন পর অর্থাৎ গত ৯ই জুলাই তার করোনা নমুনা পরীক্ষায় নেগেটিভ রেজাল্ট আসে। আসোলেশনে থাকা ১৬দিন করোনার সাথে কঠোরভাবে যুদ্ধ করে তিনি জয়ী হন। একই সাথে তার মেয়ে ঐশর্য্যও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন।

এ সময় তার স্ত্রী রুনা লাইলার সেবা যতেœ, ডাক্তারী পরামর্শ মেনে চলে এবং মানুষের দোয়ায় ও আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি দ্রæত সুস্থ্য হয়ে উঠেন। একই সাথে তার মেয়েও সুস্থ্য হন। তার অসুস্থ্যতার কথা শুনে ভেড়ামারা উপজেলার সাধারন মানুষ, ব্যবসায়ী মহল, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে এবং তার খোঁজখবর নেন। তিনি যেহেতু আগে কয়েকটি রোগের চিকিৎসা নিয়েছিলেন, এজন্যই সবার মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা ছিল বেশি। কিন্তু সমস্ত কিছু পাড়ি দিয়ে করোনাকে জয় করে ফিরে এসেছেন প্রিয় পরিবারসহ আত্বীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সকলের মাঝে। তার সুস্থ্যতায় সবার মাঝেই স্বস্তি ফিরে আসে।


করোনাকালীন সময়ে শুরুতেই যখন মানুষের মধ্যে দূর্ভোগ নেমে আসে তখন আপনজনের মতো তিনি তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন। তিনি ১০কেজি চাউল, আধা কেজি ডাউল, ১ কেজি চিনি, ১কেজি আলু, ১কেজি ছোলা, ১কেজি মুড়ি, আধা কেজি সেমাই, নগদ টাকা এবং ১কেজি করে সাড়ে ৪ মণ মাংস মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেন। এছাড়াও তিনি ৭৪জন কিন্ডার গার্ডেন শিক্ষক ও ১০জন কর্মচারীকে ১৫শত টাকা করে নগদ অর্থ সহায়তা করেন।

তিনি করোনাকালীন সময়ে মোট সাড়ে ২৫টন চাউল বিতরণ করেন। যা আনুমানিক ৩হাজার ৬শ’র বেশি পরিবারের মধ্যে এসব খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। এছাড়াও রোজার ঈদে সাড়ে ৪মণ কাচা মাংস, চিনি ও সেমাই অসহায়দের মধ্যে বিতরণ করেন। বিভিন্ন ব্যবসায়ীসহ কর্মচারীরা হঠাৎ করে বেকার হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের তিনি নগদ টাকা ও ত্রাণ সামগ্রী দিয়ে সহযোগীতা করেছেন। তিনি শুধুমাত্র করোনাকালীন সময়েই প্রায় ১০ থেকে ১১লক্ষ টাকার ত্রাণ সামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণ করেন। এছাড়াও এই বিশিষ্ট সমাজসেবক ও অসহায়দের সহায় ও বন্ধু পূর্বে থেকেই সাধারন মানুষের সাহায্য সহযোগীতা করে আসছেন।

অসহায় ও কন্যাদায়গ্রস্থ পিতাকে মেয়ের বিয়ে দিতে সাহায্য করা থেকে শুরু করে অসুস্থ্য মানুষের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগীতা করেছেন এবং করে যাচ্ছেন। এছাড়াও অনেক বেকার ও শিক্ষিত যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। অসহায় মানুষ থেকে শুরু করে সমস্যাগ্রস্থ ব্যক্তিরা পুরোপুরি ভরসা নিয়ে তার কাছে গেলে ভরসা বঞ্চিত হয় না। সেই ভরসার নাম করোনা জয়ী আলহাজ¦ আব্দুল হান্নান।

বিশিষ্ট ঠিকাদার ও সমাজসেবক করোনা জয়ী আলহাজ¦ আব্দুল হান্নান বলেন, আমি অনেক আগে থেকেই অসহায় ও দুঃস্থ্যদের পাশে থেকে খেদমত করার চেষ্টা করেছি। আমি আমার সাধ্যমত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। করোনা দূযোর্গের সময় হয়তো বা একটু বেশিই করেছি। এটা আমার কর্তব্য। আমি এ পর্যন্ত আসতে আমাকে অনেক সংগ্রাম ও লড়াই করতে হয়েছে। আমার পরিবারের একসময় অভাব অনটন ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী।

আমি অভাবকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। কষ্টগুলো অনুভব করেছি। সেই দিনগুলোর কথা ভুলবার নয়। সেজন্য অসহায় ও দুঃস্থ্য মানুষের বিপদে পাশে থাকার চেষ্টা করি। আমার এই সামান্য সহযোগীতা যদি তাদের মুখে একটু হাঁসি ফুটায় তাদের সমস্যা দুর হয়, এটুকুই আমার বড় পাওয়া। এক সময় আমার কিছুই ছিল না। আমি ছিলাম দরিদ্র পরিবারের সন্তান। এখন আল্লাহ আমাকে অনেক দিয়েছে। সেজন্য আমি যত দিন বাঁচবো ততদিন অসহায় ও দুস্থ্য এবং সমস্যাগ্রস্থ ব্যক্তিদের পাশে থেকে সাহায্য সহযোগীতা ও খেদমত করে যাবো।

Post a Comment

0 Comments