অশান্ত গ্রাম ছাতারপাড়া : হামলা মামলায় পুরুষ শুন্য

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক \ এক বিঘা জমি নিয়ে দ্ব›েদ্বর কারণে এখন পুরো গ্রাম তছনছ হতে বসেছে। হামলা মামলায় গ্রামের পুরুষ শুন্য হওয়ার পাশাপাশি বাড়ী ঘর লুট, ফসলের ক্ষেত নষ্টসহ বসতবাড়ীর চালা নিয়ে যাচ্ছে জোর করে। এমনকি বসত বাড়ীর টিউবওয়েল পর্যন্ত খুলে নিয়ে যাচ্ছে। প্রায় প্রতিনিয়ত ঘটছে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা। প্রতিপক্ষের লোকজন মামলা দায়েরের কারণে বাড়ীতে না থাকার কারণে নারীদের উপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মাত্র এক বিঘা জমি নিয়ে দুই (গাইন ও পিয়াদা) গ্রæপের মধ্যে দ্ব›েদ্বর কারণে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা আড়িয়া ইউনিয়নের ছাতারপাড়া গ্রামের চিত্র এটি। শাস্ত এই গ্রামের হালচাল এখন অশান্ত। মাঠে কৃষি কাজ না পারায় আমন মৌসুমের ধান চাষ করতে পারছে না তারা।
জানা যায়, উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের ছাতারপাড়া বেগুনবাড়ীয়া এলাকায় গত ১১জুন দুপুরে দু’পক্ষের হামলা-পাল্টা হামলায় আহত হন ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক গাইন গ্রæপের নওয়ার আলী ও  পিয়াদা গ্রæপের কৃষক তায়েজ আলী। এ ঘটনায় নওয়াব আলী বাদি হয়ে প্রতিপক্ষের ১৫জনের নামোল্লেখসহ মামলা করেন দৌলতপুর থানায়। এতে প্রতিপক্ষের সকল পুরুষ গ্রেফতার ভয়ে বাড়ি ছাড়া হওয়ায় পুরুষশুন্য পরিবারগুলির মধ্যে ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
গত ২১ জুন পুলিশ মামলাটির তদন্তে গিয়ে এজাহারভুক্ত আসামীদের বাড়ি তল্লাসী করে দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র উদ্ধার করে তার জব্দ তালিকা প্রস্তুতসহ অবৈধ অস্ত্র আইনে একই মামলার এজাহারভুক্ত আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন পুলিশ। এতে গ্রেফতার আতঙ্ক আরও একধাপ বেড়ে যাওয়ায় পুরুষশুন্য পরিবারগুলি চরম শংকার মধ্যে জীবন-যাপন করতে থাকে।
আজির উদ্দিন বলেন, মাত্র এক বিঘা জমি নিয়ে গাইন গ্রæপ ও পিয়াদা গ্রæপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিলো। সম্প্রতি এ বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই গ্রæপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।  এরই জের ধরে গাইন গ্রæপের নেতা নোয়াব আলীর নেতৃত্বে আব্দুল হামিদ, নজরুল ইসলাম নজু, আসমত গাইন, আব্দুল সালাম, মোতালেব, সাইফুল ইসলামসহ বেশকিছু সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রে শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রতিপক্ষ পিয়াদা গ্রæপের লোকজনের বাড়ীতে হামলা চালায়। এতে উক্ত গ্রæপের লোকজনের  বাড়ীর ঘরের দরজা, জানালা, খাট ও টিউবয়েলের মাথা লুট করছে। এছাড়া মাঠের পাট, কচু, মরিচ, ধইঞ্চা কেটে নিয়ে যাচ্ছে। যা দেখার বা বলার কেউ নেই। প্রতিবাদ করলেই তাকে মারধর করছে নোয়াব গ্রæপের লোকজন। রাতের আঁধারে এসে বাড়িতে ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে পুরুষশুন্য পরিবারের নারী/শিশুদের ভয়ভীতিসহ নানাভাবে নির্যাতন করছে।
ছাতারপাড়া এলাকার আব্দুর রশিদ জানান,  নোয়াব আলীর নেতৃত্বে এ গ্রামের ১৩০ টি পরিবারের সবার কম বেশি ক্ষতি করেছে। তারা রাতে দলবেধে এসে বাড়ীঘর  ও তিনটি বৈদ্যুতিক মিটার ভাংচুর ও ফসলের ক্ষতি করছে। মামলা ও হামলার ভয়ে বাড়ী যেতে পারছি না। মাঠে খাটা লোক আমরা কাজ না করতে পারলে কি সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে।
তিনি আরো বলেন, মাঠে দুই বিঘা পাট ছিলো আমার এর মধ্যে এক বিঘা জমির পাট কেটে নিয়ে গেছে তারা।
মনো রদ্দিন জানান, আমার বাড়ীতে প্রায় প্রতিদিন রাতেই ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। আমার ঘরের দরজা, জানালা ও খাট জোর করে নিয়ে গেছে। ধোঞ্চা ও পাট কেটে নিয়ে গেছে। ৪ বিঘা জমির পাট কাটতে পারিনি। ওরাই কেটে নিয়ে গেছে।
বাড়ীতে রাতে এসে বাড়ীঘর ভাংচুরসহ খাবার পানির টিউবওয়েল খুলে নিয়ে গেছে এমন অভিযোগ করে শিখা খাতুন বলেন, মারামারি করবে লোকজন আর আমাদের হবে বিপদ। আমার ঘরের চালা ভেঙ্গে নিয়ে গেছে। টিউবওয়েল এর মাথা পর্যন্ত নিয়ে গেছে। এখন অন্যের বাড়ী থেকে খাবার পানি আনতে হচ্ছে।
শওকত পেয়াদা জানান, আমার ১৫ কাঁঠা জমিতে কাঁচা মরিচ ছিলো। সেটা পুরো ক্ষেত কেটে তছনচ করে দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দিবাগত রাতে আবারো হামলার ঘটনা ঘটেছে ঐ গ্রামে। সর্বশেষ সবুজ, রনি, গনি, জিয়ারুল ও মনো রদ্দিনের বাড়ীতে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
সুমন আলী জানান, এ ব্যাপারে আমরা দৌলতপুর থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছি। তবে সে অভিযোগ পুলিশ আমলে নেইনি। তবে কেন অভিযোগ আমলে নেইনি তা আমার বোধগম্য না।
এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও জমি নিয়ে বিরোধের মুল হোতা আড়িয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক গাইন গ্রæপের নওয়ার আলী এমনটাই অভিযোগ এলাকাবাসীর।
নোয়াব আলী জানান, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে। তা সব মিথ্যা। একটি তৃতীয় পক্ষের লোকজন এ সব লুটপাট করছে।
আড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান সাঈদ আনসারী বিপ্লব জানান, এলাকার শান্তি ফেরাতে জোর চেষ্টা করা হচ্ছে। যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে জন্য পুলিশ সদস্যরা তৎপর রয়েছে।
পিপুলবাড়ীয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাবর আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রায় প্রতিদিনই হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেই চলেছে। আমরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছি। ইতিমধ্যে দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করেছি।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, পুলিশ ঐ এলাকায় অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
এদিকে জমি-জমা নিয়ে হোক আর আধিপত্ত্য নিয়ে হোক ব্যক্তিগত বা পারিবারিক দ্ব›েদ্বর জের ধরে একটি গ্রামের এ অবস্থার অবসান চান এলাকাবাসীরা। এজন্য তারা প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্র্ষণ করেছেন।

Post a Comment

0 Comments