ভেড়ামারায় গ্রীন জোনের রূপকার - ইউ এন ও সোহেল মারুফ


চেতনায় কুষ্টিযা প্রতিবেদক \ দিগন্ত থেকে দিগন্তে ছোটে রানার-, কাজ নিয়েছে সে, নতুন খবর আনার। রানার! রানার! জানা অজানার, বোঝা আজ তার কাঁধে, বোঝাই জাহাজ রানার চলেছে চিঠি আর সংবাদে, রানার চলেছে, বুঝি ভোর হয় হয়, আরো জোরে, আরো জোরে, এ রানার দূর্বার দূর্জয়, তার জীবনের স্বপ্নের মতো পিছে সরে যায় বন, আরো পথ, আরো পথ- বুঝি হয় লাল ও পূর্ব কোণ। উপরোক্ত কবিতা ক্ষনজম্মা কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য রানার কবিতার কয়েকটি লাইন। রানার এই কবিতার এই কয়েকটি লাইনের কথা যাকে দেখলে মনে পড়ে তিনি কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা বাসীর প্রিয় ব্যক্তি। একজন সেবক। একজন যোদ্ধা। একজন আলোর বাতিঘর। 

তিনি একজন প্রশাসক। দক্ষ, বিচক্ষণ দুরদর্শী সম্পন্ন, আইন ও নিয়মের প্রতি কঠোর। সর্বোপরী সবশেষে নিজের দায়িত্বের কাছে যিনি দায়বদ্ধ। কিন্তু মানুষের কাছে তিনি অতি সাধারন একজন ভদ্রলোক। বলছি তার কথা, তিনি আর কেউ নন তিনি ভেড়ামারার বন্ধু প্রশাসক, আমাদের সকলের প্রিয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল মারুফ। করোনার পূর্বের থেকে শুরু করে করোনাকালীন এবং বর্তমান সময়ে তার অবদান অসীম। তার সুদৃঢ় ও সুচিন্তিত পরিকল্পনায় আজ ভেড়ামারাতে করোনাকে পরিজিত করা সম্ভব হয়েছে। 

করোনায় ভুগতে থাকা এবং মহামারী আকার ধারন করার পূর্বেই রেডজোন থেকে গ্রীণজোনে ফিরিয়ে আনতে তার কর্মকান্ড একজন রূপকারের মতো। তার অবিরাম ছুটে চলার মধ্যে ছিল না কোন চতুরতা, নিয়মমাফিক দায়িত্ব পালন, ছিল না লোক ভোলানো কর্মকান্ড। ছিল ভালোবাসা, দায়-বদ্ধতা ও মানিবকতা। সেজন্য অল্প সময়েই সফলতা এসেছে এবং সফলতা ধরে রেখেছে। সফলতার ধরে রাখার, সফল কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। এসব কিছুই করেছেন ভেড়ামারাবাসী যেন ভাল থাকে, সুস্থ্য থাকে, জীবন জীবিকা দুটোই যেন তারা সুষ্ঠ্য ও সুন্দর ভাবে পরিচালনা করতে পারে।


জনস্বার্থে ও আইনের নিঃস্বার্থ কর্মকর্তা কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার ইউএনও সোহেল মারুফ রাতে-দিনে রোদ ঝড়-বৃষ্টিতে রানার ন্যায় ছুটে চলেছেন ক্লান্তিহীন অবিরাম নতুন খবর আনার। মহামারী করোনার দূর্যোগের ঘনঘটায় পূর্বে এবং পরের সে ও তার প্রশাসন সত্যিকার অর্থেই একজন যোদ্ধার মতন সক্রিয় ছিল। যা তার কর্মকান্ডের মধ্যে সৎ, আদর্শীক ও নীতিবানের রূপ দেখা গেছে। আমজনতা এবং রাষ্ট্রের সুফল আনতে সকল বাঁধা ডিঙ্গিয়ে আইনকে চলমান রাখার সক্ষমতা প্রমাণ করেছেন। তিনি কখনও কঠোর হয়েছেন আবার কখন কমল হৃদয়ের স্পর্শ দিয়ে সকলকে বুঝিয়েছেন। তিনি প্রতিদিন প্রতিটি সময়ে একের পর এক ও ধারাবাহিকভাবে চমকপূর্ণ কাজ করে উপজেলাবাসীর আস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। করোনাকালীন সময়ে ৩দফায় ১৮হাজার পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা করেছেন। পাশাপাশি বাল্য বিবাহ, সামাজিক বিধিনিষেধ ভঙ্গ করা ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ভাম্যমান আদালতও পরিচালনা করে গেছেন।

মানবিক কাজে তিনি কখনই পিছুপা না হয়ে উদার মনে দরিদ্র শিক্ষার্থী, অসহায় শিশু, দুঃস্থদের সহায়তার অজ¯্র নজির স্থাপন করেছেন। তিনি মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের পরিচালনায় তিনি ব্রজের মত কঠোর আবার মানবিকতায় তার মন কতটা নরম তা আমরা দেখেছি তার কর্মকান্ডে। তিনি করোনাকালীন সময়ে বরাদ্দকৃত খাদ্য সামগ্রী প্রতিনিয়ত মানুষের দরজায় সাধ্যমতো পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। কখনও বা স্বল্প মুল্যে পন্য সরবরাহ করছে নি¤œ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে। সরকারী ত্রাণের পাশাপাশি সোহেল মারুফ এর শুভাকাঙ্খীদের অনুদান এবং ভেড়ামারার বিত্তশালীদের কাছে চেয়ে নিয়েছেন সাধারন মানুষকে সহায়তা করার জন্য এবং তাদের সহায়তা করার জন্য উৎসাহী করে চলেছেন। তাকে থামাতে পারেনি এই ভাইরাস নামক দানব। ভাইরাস পরবর্তী সংকট মোকাবেলা করতে তিনি বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে এখন সফল। 

ভেড়ামারা বাজারে কর্মচঞ্চলতা ফিরিয়ে আনতে লক ডাউনের বিধিনিষেধ কড়াকড়ি করার ফলে দ্রæতই জীবন ও জীবিকা দুটোই রক্ষা পেয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলায় লকডাউন আইন অমান্য করার দায়ে কাউকেই তিনি ছাড় দেন নাই। হোক সে যতোই প্রভাবশালী। করোনা পরিস্থিতি যখন প্রকোট আকার ধারন করে তখন রেডজোন হিসাবে লকডাউন ঘোষনা হয় গত ১৮জুন ২০২০। লকডাউন কড়াকড়িতে তার ভূমিকার কারনে দ্রæত সফলতা অর্জন হলে ২১দিন পর অর্থাৎ ৮জুলাই লকডাউন তুলে নেওয়া হয় এবং ভেড়ামারাকে গ্রীন জোন হিসাবে ঘোষনা করা হয়। বর্তমানে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ব্যবসায়ীরা ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছে। এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৯৫জন। আইসোলেশনে রয়েছে ২০জন এবং মারা গেছে ১জন। প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসাবে দুঃস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত ২হাজার ৫শত টাকা নগদ বরাদ্দ উপজেলার ৭হাজার ৩শ জনের মধ্যে ইতিমধ্যে প্রায় সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পিছনে ইউএনও সোহেল মারুফের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

এছাড়াও তিনি করোনাকালীন মহাদূর্যোগের সময় ধান কাটার শ্রমিকের অভাব দেখা দিলে তিনি নিজ উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জনবল একত্রিত করে ৩০০ শ্রমিক ধান কাটতে প্রেরণ করেছিলেন। তিনি বলেন, লক ডাউন ও বিধিনিষেধ কড়াকড়ি করার একটাই উদ্দেশ্য আপনাদের সকলকে ভাল রাখতে চায়। বর্তমানে তার সুফল আপনারা পাচ্ছেন। আমাদের মনে রাখতে হবে, এই সুন্দর পরিবেশটাকে ধরে রাখা। যদি পূর্বের ন্যায় হয় তাহলে সবার জন্যই দূর্ভোগ নেমে আসবে। নিয়ম মেনে চলি, আইন মেনে চলি, আমরা সকলে সুস্থ্য ও ভাল ভাবে থাকি।

প্রিয় পাঠক, এই লেখাটি একান্তই এক যোদ্ধার সময়োচিত কর্মকান্ড পর্যালোচনা করে সংক্ষেপে আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। সারা বাংলাদেশে তার মত অনেক আমলা প্রতিটি উপজেলায় আছে। কিন্তু এই বিপর্যয়ে তার যে ভূমিকা সবার চেয়ে যেন তাকে একটু আলাদাই করেছে। তিনি ভেড়ামারাবাসীকে তার নিজের পরিবার ভেবে যেন কাজ করে যাচ্ছেন শত বাধা পেরিয়ে। ভেড়ামারায় গ্রীন জোনের রূপকার ইউএনও সোহেল মারুফ, আপনাকে স্যালুট।

Post a Comment

0 Comments