পাটের দাম নিয়ে সংশয়ে পাট চাষিরা

মোশারফ হোসেন কুমারখালী \ পাটের ন্যায্য  দাম নিয়ে সংশয়ে আছেন কুষ্টিয়া জেলার পাট চাষিরা। সরকারি পাট কলের উৎপাদন বন্ধ থাকায় বেসরকারি পাট কল গুলো সেন্ডিটেক কবলে পড়তে পারে এমন ধারণা  পাট চাষিদের।
চলতি মৌসুমে কুষ্টিয়া পাটের বাম্পার আবাদ হয়েছে। তবে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি) নিয়ন্ত্রিত পাটকলগুলোর উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় মৌসুমের শুরুতেই দাম নিয়ে সংশয়ে আছেন পাটচাষিরা। গত কয়েক বছরের বকেয়া কয়েক কোটি টাকা না পেয়ে ব্যবসা বন্ধ করে মানবেতর জীবনযাপন করছে কুষ্টিয়া বহু ব্যবসায়ী। ইতোমধ্যে পাট কাটতে শুরু করেছে কুষ্টিয়ায় কৃষকরা। তবে সরকারের পাটকলগুলো বন্ধ হওয়ায় এবার মৌসুমের শুরুতেই দাম নিয়ে সংশয়ে আছেন তারা।  পাট বিক্রি নিয়ে বেকায়দায় পড়তে হতে পারে এমন দুশ্চিন্তায় রয়েছে ,কৃষকদের মাঝে। কৃষি বিভাগের দাবি, কুষ্টিয়া এবার লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।  জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি বছর কুষ্টিয়াতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৪০ হাজার ২শ ৫৪ হেক্টর জমিতে। কুষ্টিয়া সদরে ২ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে, এর মধ্যে কুমারখালী উপজেলা রয়েছে ৪ হাজার ২ শ' পঞ্চাশ, খোকসা উপজেলা রয়েছে, ৩ হাজার,৯ শ' চল্লিশ হেক্টর জমিতে, মিরপুর উপজেলা , ৪ হাজার,৬০ হেক্টর জমিতে,ভেড়ামারা, ৩ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে, দৌলতপুর উপজেলার,১৭ হাজার ২ দুই, ২০ হেক্টর জমিতে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ আবাদ হয়েছে। পাটচাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায় গেলো ।কয়েকবছর পাটের ফলন ও দাম ভালো ছিলো। তাই লাভের মুখ দেখতে এবছর অনেকেই আবাদের পরিমাণ বাড়িয়েছিল। পাট কাটার সময় আশানুরূপ বৃষ্টি হওয়ায় পাট জাগ দেওয়ায় কোন সমস্য হচ্ছে না। তবে পাট আবাদের শুরুতে বৃষ্টি হওয়ায় ফলন ভাল হয়নি। কুমারখালী উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের পাটচাষি সুমন বলেন, তিনি এক বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। সাধারণত এক বিঘায় ১০ থেকে ১৩ মণ করে পাটের ফলন হয়ে থাকে। এক বিঘা পাট আবাদে শুরু থেকে পাট জাগ দেওয়া ছাড়ানো পর্যন্ত যে খরচ হবে। পাট বিক্রি করে সেই খরচ উঠবে কি না তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে। তারপরে আবার সরকারি পাটকল বন্ধ ঘোষণা করেছে। যদি বেসরকারি পাটকলগুলো সিন্ডিটেক করে পাটের দাম কমায়, তাহলে আরো বেকায়দায় পড়তে হবে তাদের। একই গ্রামে পাটচাষি দবির হোসেন বলেন, তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। পাট বাজারে ওঠার আগেই যে অবস্থা তাতে মনে হচ্ছে দাম পাবোনা, যে কারণে আগামীতে পাট আবাদ করবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শ্যামল কুমার বিশ্বাস বলেন, চৈত্র মাসের শুরুতে পাটের বীজ রোপন করতে হয়। যারা সঠিক সময়ে পাট চাষ শুরু করেছিল তাদের পাট পরিপক্ক হয়েছে। ফলে তাদের আবাদও ভাল হয়েছে। কিন্তু যারা সঠিক সময়ে আবাদ শুরু করতে পারে নাই, পাট কাটার সময় এসে গেলেও তাদের পাট পরিপক্ক না হওয়ায় তাদের ফলন কিছুটা খারাপ হয়েছে। দামের বিষয়ে তিনি বলেন, দাম নিয়ে কৃষকের দুশ্চিন্তার কোন কারণ নাই। কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য পাবে। কুষ্টিয়া জেলার একটি মাত্র (বিজেএমসি) নিয়ন্ত্রণধীন খোকসা উপজেলায় সরকারি ভাবে পাট কেনা হয়। পাট চাষিরা জানান প্রতিটি উপজেলায় পাট ক্রয় কেন্দ্র থাকলে পাট চাষিরা উপকৃত হবে। প্রায় দুই বছর যাবত পাট ব্যবসায়ীদের টাকা বকেয়া থাকায় পাট দিতে আগ্রহ হারাচ্ছে পাট ব্যবসায়ীরা।

Post a Comment

0 Comments