ভেড়ামারার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্ট পদ্মায় বাড়ছে পানি \ ভাঙন অব্যাহত

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক \  পানি বাড়তে শুরু করেছে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্ট ও তার শাখা গড়াই নদীতে। তবে এখনও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে পানি বাড়ার কারণে ভাঙন দেখা দিয়েছে জেলার ভেড়ামারার ঢাকাপাড়া ও মিরপুর উপজেলার তালবাড়ীয়া ও কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহের কোমরকান্দি এলাকায়। রোববার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী পীযুষ কৃষ্ণ কুন্ডু।
পীযুষ কৃষ্ণ কুন্ডু জানান, ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলের কারণে দেশের নদ-নদীর পানি বাড়ছে। সেই সঙ্গে কয়েকদিন থেকেই ভেড়ামারার পদ্মার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে ও শাখা নদী গড়াইয়েও পানিতে বাড়ছে।  রোববার সকাল ৬টার দিকে পদ্মার ওই হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানি প্রবাহের মাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৮৯ সেন্টিমিটার। শনিবার একই পয়েন্টে পানি প্রবাহের মাত্রা যা ছিল ১০ দশমিক ২৯ সেন্টিমিটার। ২৪ ঘণ্টায় পানি প্রবাহ বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার। পদ্মার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানি প্রবাহের বিপৎসীমা ১৪ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার। রোববার সকাল ৬টার দিকে পদ্মা নদীর শাখা গড়াই নদীতে পানি প্রবাহের মাত্রা ছিল ০৯ দশমিক ৫৭ সেন্টিমিটার। শনিবার যা ছিল ০৯ দশমিক ২৩ সেন্টিমিটার। ২৪ ঘণ্টায় পানি প্রবাহ বেড়েছে শূন্য দশমিক ৩৪ সেন্টিমিটার। গড়াই নদীতে পানি প্রবাহের বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার।
পীযুষ কৃষ্ণ কুন্ডু আরও জানান, পদ্মা ও গড়াই নদীতে পানি বাড়ার কারণে ভেড়ামারার উপজেরার ঢাকাপাড়া মিরপুরের উপজেলার তালবাড়ীয়া এবং কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহের কোমরকান্দি এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। তবে পদ্মা ও গড়াই নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছে।
শিলাইদহ ইউপি চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন খান তারেক বলেন, বর্ষায় নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোমরকান্দি এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। কুঠিবাড়ী সংলগ্ন নদীর প্রধান দেড় কিলোমিটার কোমরকান্দির অংশে কোনো বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় এ ভাঙন দেখা দিয়েছে। চলমান ভাঙন কোনোভাবে প্রতিরোধ না করা গেলে কুঠিবাড়ীসহ আশেপাশের ছয়টি গ্রামের হাজার হাজার বিঘা কৃষি জমি, ঘরবাড়িসহ সবকিছু নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
তালবাড়ীয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান বলেন, নদীতে পানি বাড়ার কারণে তালবাড়ীয়ার বাঁধের পাশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যেই বেশ কিছু কৃষি জমি নদীগর্ভে ভাঙনের কবলে পড়েছে।  
মোকারিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ জানান, ঢাকা পাড়া কয়েক বছর আগে পদ্মায় বিলিন হয়ে গেছে। সেখানে চর উঠার পর আবার ভাঙ্গন শুরু হয়েছে।

Post a Comment

0 Comments