এই মহামারিতে বাড়ছে বাল্যবিয়ে

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক \ করোনায় মানুষ যখন ঘরবন্দি তখন বাড়ছে বাল্য বিবাহের পরিমাণ। চলতি মাসে ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ফোনে খবর পেয়ে তিনটি বাল্য বিবাহ ঠেকিয়েছে।
দেশের একটি জাতীয় দৈনিকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষণার বরাতে বলা হয়, করোনাভাইরাসের বিস্তারের এ সময় বাল্যবিবাহের সংখ্যা আগের চেয়ে বেড়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় গ্রামীণ পরিবারগুলোতে একধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। বিভিন্ন দেশে কর্মরত অভিবাসী শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা এ সময়টায় দেশে ফিরেছেন।
সমাজ বাস্তবতায় প্রবাসে কাজ করা ছেলের ‘পাত্র’ হিসেবে চাহিদা বেশি। আর এই অবরুদ্ধ অবস্থায় বিয়ে দিয়ে ফেলার চেষ্টা করছেন অভিভাবকেরা।
খবরে বলা হয়- আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এখন কম হচ্ছে। সেই সুযোগও কাজে লাগাচ্ছে কেউ কেউ। সমাজের দরিদ্র অনেক অভিভাবকই এ সময় মেয়ের বিয়ে দিতে চাচ্ছেন, এ সময়টায় মানুষের চলাফেরা কমে গেছে। তাই খুব বেশি মানুষকে আপ্যায়ন করতে হচ্ছে না। এতে তাদের খরচও কমে যাচ্ছে।
বিভিন্ন গবেষণা বলছে, লকডাউনে ঘরের মধ্যে পরিচিত মানুষের মাধ্যমে মেয়ে শিশুরা যৌন হয়রানির শিকার বেশি হচ্ছে। এই দিকটাও বাল্যবিবাহ দেয়ার পেছনে কারণ হিসেবে কাজ করছে অনেক ক্ষেত্রে।
তবে বাল্যবিবাহ বেড়ে যাওয়ার কথা সরকারি স্তরে কিন্তু স্বীকার করা হচ্ছে না। সরকারি ভাষ্য, হয়তো বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে কিন্তু বেড়ে যে গেছে এর অকাট্য প্রমাণ নেই। যদিও মাঠপর্যায়ের গবেষণায় বাল্যবিবাহ বেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট।


Post a Comment

0 Comments