তুখোড় ছাত্রনেতা থেকে পরিপূর্ণ রাজনীতিক জননেতা আলহাজ্ব আব্দুল আলীম স্বপন'র বর্ণাঢ্য রাজনীতির ইতিকথা

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক \ স্বৈরাচার এরশাদজান্তা বিরোধী ছাত্র-গণ আন্দোলনে রাজপথ প্রকম্পিত করে গুটিকয়েক যেসব ছাত্রনেতা পরিবর্তিত পরিস্থিতির আলোকে স্থানীয়সহ জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান দৃঢ় করতে সক্ষম হয়েছেন, জননেতা আলহাজ্ব আব্দুল আলীম স্বপন তাদের মধ্যে অন্যতম, এক ও অনন্য। শত হামলা-মামলা, কারাবরণ এমনকি মৃত্যুভয়ও যাকে তাঁর রাজনীতি তথা রাজনৈতিক ভাবাদর্শ থেকে কখনও বিচ্যুৎ করতে পারেনি। তৃণমূল থেকে গুটিগুটি পায়ে আজকের সুদৃঢ় এই অবস্থানে পৌঁছানোর এই পথটা কখনই কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না, সর্বস্তরের গণমানুষের আস্থার প্রতিক হয়ে উঠা জননেতা আলহাজ্ব আব্দুল আলীম স্বপন'র। ১৯৮০সালে রাজনৈতিক মামলায় প্রথমবারের মতো গ্রেপ্তার আর কারাবরণের পর থেকে বিভিন্ন কারনে প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে মোট ১৭বার গ্রেপ্তারের মুখোমুখি হয়ে ১৩বার কারাবরণের পাশাপাশি রাজনৈতিক হয়রানিমূলক ৮৭টি মামলাও মোকাবেলা করতে হয়েছে তাঁকে।
১৯৬১সালের ১৫ই মার্চ ভেড়ামারা উপজেলার বর্তমান চাঁদগ্রাম ইউপির চন্ডিপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম আজকের জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিক আলহাজ্ব আব্দুল আলীম স্বপন'র। বাবা শীর্ষ ব্যবসায়ী ও ঠিকাদার মরহুম লুৎফর রহমান জোয়ার্দার, গৃহিণী মা হালিমা খাতুন'র বড় সন্তান আব্দুল আলীম স্বপনের শিক্ষাজীবনও বেশ বৈচিত্র্যময়। ডানপিঠে স্বভাবের কারণে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক শিক্ষাজীবন শেষ করতে কয়েকটি স্কুল থেকে লেখাপড়া শেষ করতে হয়েছে তাঁকে। শৈশব থেকেই রাজনীতি সচেতন আব্দুল আলীম স্বপন ১৯৭৩সালে ধরমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ (স্টুডেন্ট ক্যাবিনেট) নির্বাচনে তিনি জিএস এবং পরের বছরে (১৯৭৪ সালে) ভিপি পদে নির্বাচিত হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর আগমণীবার্তা জানান দেন। ১৯৭৯ সালে ঐ স্কুল থেকে (এসএসসি) ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন। এরপর তিনি ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ ও রাজনীতির চারণভূমি হিসেবে বিবেচিত ভেড়ামারা কলেজে ভর্তি হয়ে ঐ বছরই অনুষ্ঠিত ছাত্রসংসদ নির্বাচনে "আমোদপ্রমোদ ও নাট্যসম্পাদক" পদে নির্বাচিত হন। পরের বছর (১৯৮০) সালে স্বপন জাসদ সমর্থিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অত্র কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনিত হন। ১৯৮২ সালে অনুষ্ঠিত কলেজ ছাত্রসংসদ নির্বাচনে নিজদলীয় প্যানেলের পক্ষে ব্যালট বিপ্লব ঘটিয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল প্যানেলকে পরাভূত করেনিজে জিএস পদে নির্বাচিত হয়ে রাজনৈতিকবোদ্ধাদের তাক লাগিয়ে দেন। পাশাপাশি রাজনীতিতে তাঁর বলিষ্ঠ আগমণীবার্তাও ঘোষিত হয়ে পড়ে নজিরবিহীন এই বিজয়ের মাধ্যমে। এরপর থেকে রাজনীতিতে তাঁকে আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। ধীরে ধীরে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা আর দূরদর্শিতা দিয়ে আব্দুল আলীম স্বপন রাজনীতিতে নিজের শক্তভীত গড়ে তুলতে সক্ষম হন। ১৯৮৪ সালে ভেড়ামারা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, ১৯৮৫ সালে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি পদে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি নিজেকে মূলধারার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেন। ১৯৮৯ সালে ভেড়ামারা উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক ও ১৯৯২ সালে কুষ্টিয়া জেলা শাখার সদস্য পদে মনোনিত হওয়ার পর ১৯৯৯ সালে জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক পদ লাভ করেন আব্দুল আলীম স্বপন। জেলার রাজনীতিতে অত্যন্ত বলিষ্ঠভাবে তাঁর সাংগঠনিক কর্মকান্ড দলীয় হাইকমান্ডের আস্থা অর্জন করার কারনে ২০১৭ সালে জাসদের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল ও পরবর্তীতে আরও ১বার সাংগঠনিক সম্পাদক পদ লাভে সমর্থ হন। জাসদ সভাপতি, সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জননেতা হাসানুল হক ইনু এমপি'র বিশ্বস্ত সহচর হিসেবে বিগত ৩টি জাতীয় নির্বাচনে এতদ্বাঞ্চলের মাটি ও মানুষের গণনেতা আলহাজ্ব আব্দুল আলীম স্বপন জননেতা হাসানুল হক ইনুকে এমপি পদে নির্বাচিত হতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে রাজনৈতিক মহলের আস্থা ও প্রশংসা অর্জনে সক্ষম হয়েছেন। সততা ও নিষ্ঠার সাথে রাজনীতি করে জননেতা আলহাজ্ব আব্দুল আলীম স্বপন আগামীতেও তাঁর নীতি-আদর্শে অবিচল থেকে গণমানুষের সেবায় নিজেকে সদাব্রত রাখবেন, এ প্রত্যাশা সকলের।

Post a Comment

0 Comments