কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারের বদান্যতায় প্রতিবন্ধি শিশু শান্ত সুস্থ্যতার পথে


হুমায়ুন কবির হিমু \কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার তানভির আরাফাত' বদান্যতায় উন্নত চিকিৎসার সুবিধা পেয়ে হত দরিদ্রঘরের বছরের শিশুপুত্র শান্ত সুস্থ হয়ে উঠছে। চিকিৎসায় অভুতপুর্ব উন্নতি হওয়ায় ইতিমধ্যেই শান্ত বছরের শিকল/রশিতে বাঁধা জীবন থেকে মুক্তভাবে চলাচল করছে
বলছিলাম মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান ইউপির কালিতলার হতদরিদ্র জসিম উদ্দিনের ছেলে মানুষিক প্রতিবন্ধি সেই শিশু শান্তর কথা
স্বাভাবিক জন্ম হলেও বছরের সময় শান্ত অপ্রকিতস্থ আচরন শুরু করে। রাতে বাবা,মায়ের সাথে ঘুমিয়ে আছে। হঠাৎই পিতা-মাতা ঘুম থেকে জেগে দেখে শান্ত ঘরে নেই। প্রতিবেশিদের বাড়ীতে শোনা যাচ্ছে ইট পাটকেলের শব্দ। পরে দেখা গেল প্রতিবেশিদের ঘরের টিন,বেড়ায় ইট পাটকেল ছুড়ছে শান্ত। আবার বাড়ীর পাশদিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের ড্রেন থেকে ময়লা আবর্জনা খাচ্ছে সে প্রতিবেশি শিশুরা চরম আতঙ্কে থাকতো শান্তকে নিয়ে,কখন সে ইট ছুড়ে আহত করে সে ভয়ে। শান্তর আপন ছোট ভাইকে দুবার গলাটিপে হত্যার চেষ্টাও করেছিল সে। তার অপ্রকিতস্থ আচরনে বাঁধা দিলে দিনে যেমন-তেমন রাত হলেই চিল্লাপাল্লা  মাত্রা বেড়ে যেত। প্রতিনিয়ত প্রতিবেশিদের অভিযোগ থেকে নিস্কৃতি পেতে এক সময় শান্তকে শিকল/দড়িতে বেঁধে রাখা শুরু হয়। বেঁধে রাখলেই চিল্লাপাল্লার মাত্রা বাড়তো। তাই রাতে প্রতিবেশিদের শান্তির জন্য দুরের বাঁশ বাগানেও বেঁধে রেখে আসা হতো
এমনই সংবাদ পেয়ে শান্তর বাড়ীতে গিয়ে গত ৩০ এপ্রিল ফেসবুক লাইভ দিই। সেই লাইভটি ছড়িয়ে পড়লে নজর আকৃষ্ট হয় কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের। তিনি মিরপুর থানার ওসির মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে শান্তর চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। যারই ফলশ্রুতিতে দুইমাস আগে মিরপুর থানার এক এস আই ভাড়া মাইক্রোতে শান্তর বাবা,মা শান্তকে বাড়ী থেকে উঠিয়ে নিয়ে পাবনা মানুষিক হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে শান্তকে দেখানো হয়। চিকিৎসকের দেয়া প্রেসক্রিপশনের ঔষধ কিনে আবার শান্তর বাড়ীতেই রেখে যান। ওই চিকিৎসায় অভুতপুর্ব উন্নতি হয় শান্তর। শান্তর বাবা জসিম উদ্দিন মা সীমা খাতুন জানায়, চিকিৎসার ফলে শান্ত চিল্লাপাল্লা আর আগের মতো করেনা। তাই এখন আর বেঁধে রাখা হয়না তাকে। ড্রেন থেকে ময়লা খাবার প্রবণতাও কমে গেছে। জামা প্যান্ট ছাড়াই চলতে চাইতো, শান্ত এখন জামা প্যান্ট পরালে পরতে চায়। কথা বলতো না, কথা বলাও শুরু করেছে
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দুমাস পর গত দুদিন আগে মিরপুর থানার এক এস আইয়ের নেতৃত্বে আবারো ভাড়া করা মাইক্রোতে করে পাবনায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল শান্তকে
চিকিৎসক জানিয়েছেন, একটানা বছর চিকিৎসা নিলে শান্ত প্রতিবন্ধি জীবন থেকে সুস্থতা ফিরে পেতে পারে

Post a Comment

0 Comments