ভেড়ামারায় মরণঘাতি করোনাকে উপক্ষো করে অসহায় ও মধ্যবিত্ত মানুষের আশার বাতিঘর সোহেল মারুফ

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক  \ গোটা পৃথিবীর মানুষ নামের প্রাণীটির বর্তমান সময়টা চরম আতংক, উৎকন্ঠা ও মৃত্যু ভয়ে আতংকীত হয়ে আছে, করোনা নামক ভাইরাসটির প্রকোপে। পৃথিবীর ধনি-গরীব প্রধানমন্ত্রী থেকে দিনমজুর লড়াই করছে অদৃশ্য এক ভাইরাসের বিরুদ্ধে।
এখন পর্যন্ত বের হয়নি করোনা নামক এই ভাইরাসের প্রতিষেধক। ইতিমধ্যে কেড়ে নিয়েছে ২ লক্ষের বেশি প্রাণ। তবুও থেমে নেই চিকিৎসক, বিজ্ঞানী ও গবেষকরা। প্রতিষেধক আবিষ্কারের অবিরাম প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সারা পৃথিবীর মানুষের মতো বাংলাদেশের মানুষও এই মরণব্যাধি করোনা ভাইরাসের থাবায় দিশেহারা। বাইরে বের হলে যেমন, এই রোগের আক্রমন, ঘরে থাকলে না খেয়ে মরার দশা, যেন জলে কুমির ডাঙ্গায় বাঘ। কি করবে নি¤œ শ্রেনীর মানুষেরা। এমন অবস্থায় জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে বেঁেচ আছে অসহায় মানুষগুলো। সারা পৃথিবীর ন্যায় এই অসহায়ত্ব নিয়ে দিন পার করছেন কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার প্রায় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার ৪৮০জন নারী-পুরুষ অর্থাৎ শিশু-বৃদ্ধরা এখন চরম অসহায়। তবে এই হতাশাগ্রস্থ মানুষের পাশে প্রথম থেকেই সম্মুখ যোদ্ধা হিসাবে ভাইরাস আতংককে উপক্ষো করে সর্বক্ষন আছেন ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল মারুফ।
তিনি বরাদ্দকৃত খাদ্য সামগ্রী প্রতিনিয়ত মানুষের দরজায় সাধ্যমতো পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করছেন। কখনও বা স্বল্প মুল্যে পন্য সরবরাহ করছে নি¤œ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে। সরকারী ত্রাণের পাশাপাশি সোহেল মারুফ এর শুভাকাঙ্খীদের অনুদান এবং ভেড়ামারার বিত্তশালীদের কাছে চেয়ে নিচ্ছেন সাধারন মানুষের অনুদান এবং তাদের অনুদানে উৎসাহী করে চলেছেন। তাকে থামাতে পারেনি এই ভাইরাস নামক দানব। ভাইরাস পরবর্তী সংকট মোকাবেলা করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে চলেছেন। সাধারন মানুষ না খেয়ে একটি দিনও যেন পার না করে সেই চেষ্টায় অবিরাম কাজ করে চলেছেন। রোদ-ঝড় বৃষ্টি উপক্ষো করেই অনেক গভীর রাত পর্যন্ত খাদ্য সামগ্রী নিয়ে ছুটে যান অসহায় মানুষের দরজায়। জানা যায়, অনেকে চক্ষু লজ্জার কারনে যেসব মধ্যবিত্ত ও নি¤œ মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন ত্রাণ নিতে আসতে পারছেন না বা নেয় না, তাদের বিষয়ে তিনি প্রথম থেকেই অবগত হয়েছেন। এই লক্ষে তিনি বিশেষ ব্যবস্থা করে তাদের বাড়িতে গোপনে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন ইউএনও সোহেল মারুফ। এ এক অন্যন্য দৃষ্টান্ত।
ত্রাণ সহায়তা পেতে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের হট লাইনে অথবা ৩৩৩ নাম্বারে অথবা ইউএনও এর নিজস্ব নাম্বারে এসএমএস পাঠিয়ে বা ফোন করলেই বাসায় পৌঁছে যায় খাদ্য সহায়তা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রির ত্রাণ সহায়তা, সাংসদ হাসানুল হক ইনু’র ত্রাণ সহায়তাসহ এ পর্যন্ত আনুমানিক সরকারী-বেসরকারী ভাবে উপজেলায় প্রায় ২৭,০০০টি পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন। তিনি কোন সময় সরকারী ত্রাণ বা এলাকার বিত্তবান মানুষের কাছে সহযোগীতা নিয়ে অসহায় মানুষের কাছে ছুটে চলেছেন। ইউএনও সোহেল মারুফের এহেন কার্যক্রম দেখে উপজেলার অনেক বিত্তবানরা স্ব-ইচ্ছায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। আগামীতে এই লড়াকু যোদ্ধার পাশে অনেক বিত্তবান দাঁড়াবেন বলে আশ^স্থ্য করেছেন।
এদিকে পাশের অন্যান্য জেলা গুলো থেকে ধান কাটার শ্রমিক চাহিদা দেওয়ায় তিনি নিজ উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জনবল একত্রিত করে ৩০০ শ্রমিক নাটোর জেলায় প্রেরণ করেন। সেই সাথে তিনি উপজেলার সকল কৃষকগণকে চলমান সামনের মৌসুমের ধান/খাদ্যশস্য ব্যতীত অন্য কিছু চাষ না করার জন্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ করেন এবং উল্লেখ করে বলেন, ইতিমধ্যে কেউ জমিতে পাট রোপন করে থাকলে তিনি যদি রোপনকৃত আবাদ পরিবর্তন করে ধানের আবাদ করতে চান তবে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ভেড়ামারা পরামর্শ মোতাবেক উপজেলা প্রশাসন থেকে তাকে বীজের দামসহ ভূর্তুকি দেওয়া হবে। এমন মহৎ উদ্যোগের মধ্যে আগাম খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়েও তিনি কাজ করে চলেছেন।
কয়েকদিন আগে বাজার মনিটরিং করার সময় এক বয়স্ক মানুষ ও তার নাতিকে উদভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়াতে দেখে ইউএনও সোহেল মারুফ কাছে গিয়ে জানতে চান আপনার সমস্যাটি কি? বয়স্ক ব্যক্তিটি জানান, তিনি মুক্তিযোদ্ধা, বাইরে থেকে এসে ভেড়ামারায় আটকে গেছেন, তিনি খুলনা যেতে চান। ইউএনও ক্ষেমিরদিয়াড়ের এক ব্যবসায়ীর সহায়তায় তাদের দুজনের থাকা-খাওয়া নিশ্চিত করে খুলনা যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন।
এছাড়াও করোনার ভাইরাস এই মরণব্যাধী উপেক্ষা করে দিন রাত মানুষের পাশে থেকে পুরো উপজেলায় সাড়া জাগিয়েছেন এই কর্মকর্তা। সামাজিক দুরুত্ব নিশ্চিত করতে প্রতিদিনই খুব সকাল থেকেই পৌরসভার বাজার মনিটরিংসহ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের তার কার্যক্রম শুরু করেন। তিনি ছুটে চলেন উপজেলার গ্রামেগঞ্জে। কোন সাহায্যের আবেদন আসলে সেটা যাচাই বাছাই করে গোপনীয়তা রক্ষা করে মানবিক সহায়তা পৌছে দেন আবেদনকারীর বাড়িতে। প্রশাসনের ব্যতিক্রমী এই মহতি উদ্যোগ অব্যাহত থাকায় সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসিতও হচ্ছেন।
প্রিয় পাঠক, এই লেখাটি একান্তই এক যোদ্ধার সময়োচিত কর্মকান্ড পর্যালোচনা করে আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। সারা বাংলাদেশে তার মত অনেক আমলা প্রতিটি উপজেলায় আছে। কিন্তু এই বিপর্যয়ে তার যে ভূমিকা সবার চেয়ে যেন তাকে একটু আলাদাই করেছে। তিনি ভেড়ামারাবাসীকে তার নিজের পরিবার ভেবে যেন কাজ করে যাচ্ছেন শত বাধা পেরিয়ে। বিশেষ একটি কথা না বললেই নয়, ভেড়ামারা বাসীকে করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষায় বা কোন ব্যক্তিই সংক্রমিত না হয় সেজন্য করোনা সংক্রামন এলাকা থেকে কোন মানুষ এলেই সাথে সাথে ছুটে যাচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন। এই জিনিসটিই ভেড়ামারাবাসীর প্রতি তিনি কতটা আন্তরিক তার বলা অবকাশ রাখে না।

Post a Comment

0 Comments