কুষ্টিয়ায় ত্রাণ আত্মসাৎ : অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক \\  ত্রাণ আত্মসাতসহ অনিয়ম এবং দুর্নীতির ঘটনায় এবার কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এক ইউপি চেয়ারম্যান এবং ইউপি সদস্য ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার বিকালে কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সেলিনা খাতুন এ নির্দেশ দেন। অভিযুক্তরা হলেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুন্ডি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল বিশ্বাস এবং কুমারখালী উপজেলার সদকী ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আনছার আলী ও তার ভাই হানিফ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দৌলতপুর এবং কুমারখালী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ফৌজদারি কার্যবিধির ধারায় এ নির্দেশ দেন বিচারক।
আদালতের আদেশে বলা হয়, ‘গণমাধ্যমে প্রকাশিত ‘১৩ মাস পর কার্ড পেলেন নারী, ৩৬০ কেজি চাল উধাও’ শিরোনামের প্রকাশিত প্রতিবেদনটি আদালতের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দৌলতপুর থানাধীন খলিসাকুন্ডির এক নারীর নামে ভিজিডি কার্ড হলেও তিনি কার্ড সম্পর্কে জানেন না এবং তার নামে কে চাল উত্তোলন করেছেন তাও তিনি অবগত নন। ওই চাল খলিসাকুন্ডি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল বিশ্বাসের একটি দল আত্মসাত করেছেন মর্মে ভুক্তভোগী ওই নারী অভিযোগ করেছেন। ইউপি চেয়ারম্যান এবং মেম্বার কর্তৃক এলাকার অসহায় মানুষদের চাল আত্মসাতের ঘটনা নতুন নয় মর্মে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন। এটি একটি ফৌজদারি অপরাধ। বিষয়টি তদন্তপূর্বক আগামী ১০ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দৌলতপুর থানা পুলিশের ওসিকে নির্দেশ দেয়া হলো।
অপর আদেশে বলা হয়, পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ‘কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ইউপি সদস্যের বাড়ি থেকে সরকারি চাল কিনে খাচ্ছে হতদরিদ্ররা’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের দৃষ্টিগোচর হয়। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কুমারখালী থানাধীন সদকী ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আনছার আলী এবং তার ভাই হানিফ দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাল বিক্রি করছেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। এটি ফৌজদারি অপরাধ। বিষয়টি তদন্তপূর্বক আগামী ১০ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্যে কুমারখালী থানার ওসিকে নির্দেশ দেয়া হলো।
গত ১৩ এপ্রিল ত্রাণ নেয়ার সময় ছবি তুলতে অনীহা প্রকাশ করায় দুস্থদের মারধর করায় দৌলতপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এমএম মোর্শেদ।
এছাড়া গত ২২ এপ্রিল কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সেলিনা খাতুন স্বপ্রণোদিত হয়ে ভিজিডির চাল ও বয়স্কভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মিরপুর উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওমর আলী এবং ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সদস্য রাজিয়া খাতুন, তার স্বামীর বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য মিরপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন।














Post a Comment

0 Comments