ভেড়ামারার বিলশুকাভবানীপুর এলাকায় শান্ত হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবী সাংবাদিক সম্মেলন ॥ বাদী ও স্বাক্ষীর পরিবার কে হুমকি

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের বিলশুকাভবানীপুর মঠপাড়া এলাকার আসাদুল মন্ডলের ছেলে শান্ত হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবীতে  ভেড়ামারা প্রেস ক্লাবের হলরুমে সাংবাদিক সম্মেলন করেন। বাদী ও স্বাক্ষীর পরিবারকে আসামীরা হুমকি প্রদান অব্যাহত রেখেছে।
বাদী ও স্বাক্ষীর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে।  কুষ্টিয়ার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ভেড়ামারা আমলী আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। ভেড়ামারা সি আর ১৯৭/২০১৬ তাং ২২-০৯-১৬ ইং। আসামীরা হলেন ভেড়ামারা উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের বিলশুকাভবানীপুর এলাকার আছান উদ্দিন প্রামানিকের মেয়ে চুমকি খাতুন বুড়ি (২৪), সুখী খতুন (৪৫), আছান উদ্দিন প্রামানিক (৫০), আঃ রাজ্জাক মৃধার ছেলে মাহাবুল মৃধা (৩৫), মৃত শামছুদ্দিনের ছেলে জিয়া (৩৪), খেদালী মৃধার ছেলে সাইফুর ইসলাম (৩৬), মৃত শামছুদ্দিনের ছেলে রবিউল ইসলাম রবুল (৩৭) ও মৃত ছলিম উদ্দিনের ছেলে আঃ মান্নান (৬২)।
ভেড়ামারা উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের বিলশুকাভবানীপুর মঠপাড়া এলাকার আসাদুল মন্ডলের ছেলে নিহত শান্ত মা রাশি খাতুন ওরফে রাশিদার সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য বলেন, উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের বিলশুকা ভবানীপুর এলাকায় আছান উদ্দিন প্রাঃ এর মেয়ে চুমকি খাতুন বুড়ি এর সাথে আমার একমাত্র ছেলে শান্ত প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর পর থেকে চুমকির পরিবারের সাথে দুই পরিবারের মধ্যে সম্পর্কেও অবনতি হয়। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় চুমকি ও শান্তর পরিবারের মধ্যে সম্পর্কের স্থায়ী রুপ নেয়। চুমকি ও শান্তর মধ্যে বিবাহের কথাবার্তা চলে। এর পর থেকে শান্ত ও চুকমির পরিবারের মধ্যে যাওয়া আসা ও পারস্পারিক যোগাযোগ চলে। গত ০৮/০৮/২০১৬ ইং তারিখে শান্তকে আসামীরা বাড়ীতে দাওয়াত দেয়।  ঐ দিন রাত ৮টার সময় শান্ত উক্ত বাড়িতে দাওয়াত খাই। পূর্ব শত্রুতার কথা মনে করে ও পরিকল্পিত ভাবে শান্তকে খাবারের সাথে বিষ মিশ্রিত করে তা পরিবেশন করে। শান্ত অসুস্থ হয়ে পড়লে রাত ১০ টার সময় তার আসামীর বাড়ীর লোকজন তাকে নিজ বাড়ীতে পৌঁছাইয়ে দেয়। শান্তর পরিবার তার ছেলের অসুস্থতা দেখে এলাকাবাসীর সহযোগীতায় ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। শান্তর অবস্থা অবনতি হলে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তাররা রাত ৩.৩০ মিনিটে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করলে তাকে নেওয়ার পথে রাস্তায় মৃত্যু হয়। মৃত শান্তকে তার নিজ বাড়ীতে নিয়ে আসলে আসামীরা দ্রুত দাফনের জন্য লাশ পোষ্ট মোর্টেম ছাড়ায় দাফন সম্পূর্ণ করে। বাদিনীর এক মাত্র পুত্র   সন্তান শান্তর আকস্মিক অকাল মৃত্যুকে শোকাহত পরিবার সঠিক কারন বুঝতে পারেনী। আসামীদের কানাকোষা ও লোকমুখে জানতে পারে হাসপাতালের চিকিৎসা ছাড়পত্রে বিষ প্রয়োগের বিষয় কথা উল্লেখ্য রয়েছে। শান্তর মৃত্যু প্রকৃত রহস্য সম্পর্কে অবগত হন। শান্তর মৃত্যুর কারণ উল্লেখ্য করে লাশ উত্তোলন করে পোষ্টমোর্টেম এর দাবী করে অভিযোগ দায়ের করলে ভেড়ামারা থানা কতৃপক্ষ গড়িমসি ও অভিযোগ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এ ব্যাপারে কুষ্টিয়ার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ভেড়ামারা আমলী আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। পুর্ব শত্রুতার কারনে শান্তকে ০৮-০৮-১৬-ইং তারিখে আসামীরা গোপনে খাদ্যে বিষ মিশিয়ে হত্য করেছে। লাশ উত্তোলন করে পোষ্ট মোর্টেম শেষে সুষ্ঠ তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধতর্ন কর্মকার্তদের দৃষ্টি আকর্ষন করেছে শান্তর পরিবার।

Post a Comment

0 Comments