Header Ads

কুষ্টিয়ার ২ উপজেলায় বানভাসী মানুষের অভিযোগ তারা ত্রাণ পাচ্ছেন না

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক ॥ ফারাক্কার ধেয়ে আসা পানিতে কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদীর পানি বেড়েই চলেছে। রোববার পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে জানাগেছে, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ সেতু পয়েন্টে পানি বিপদসীমা থেকে মাত্র ৬ সেন্টিমিটার দুরে অবস্থান করছে।
নদীতে অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর, বাহাদুরপুর ও জুনিয়াদহ ইউনিয়ন, দৌলতপুর উপজেলার চিলমারী ফিলিপনগর ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গড়াই নদীর পানি বেড়ে উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের নিচু অঞ্চলে পানি ঢুকে পড়েছে। দৌলতপুরে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে ৩ ইউনিয়নের আরও ৬টি গ্রাম। বন্যা কবলিত গ্রামগুলো এখন দুর্ভোগ আর আতঙ্কের জনপদ। অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে গ্রাম ছাড়ছেন। রোববার দুপুওে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটি’র সভাপতি, তথ্যমন্ত্রী ও কুষ্টিয়া-২  (ভেড়ামারা-মিরপুর) আসনের সংসদ সদস্য হাসানুল হক ইনু এমপি কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর, বাহাদুরপুর ও জুনিয়াদহ ইউনিয়নের পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া ৩৫০ জন পরিবারকে চাল প্রদান করেন।
জানা গেছে, হঠাৎ ফারাক্কা বাঁধের সব গেট খুলে দেওয়ায় উজান থেকে নেমে আসা পানিতে প্লাবিত হয় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পদ্মা তীরবর্তী চিলমারী ফিরিপনগর ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৪৪টি গ্রাম। এছাড়া পাশের ভেড়ামারা উপজেলার ৩ টি ইউনিয়নের বন্যার পানি ঢুকে পড়ে। চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের আরও ৬টি গ্রাম নতুন কওে প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় দুই ইউনিয়নের ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তলিয়ে গেছে প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমির ফসল। পানিবন্দি রয়েছেন প্রায় ৬২ হাজারেরও বেশি মানুষ। প্রতিটি ঘরেই পানি ঢুকে যাওয়ায় মানবেতর জীবন-যাপন করছেন সেখানকার মানুষ। এসব এলাকায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ দিনের বেলা খেয়ে না খেয়ে কাটালেও রাতের বেলায় সাপ পোকামাকড়ের ভয়ে ঠিক মত ঘুমাতেও পারছেন না। গবাদি পশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন বানভাসি এলাকার মানুষ।
এদিকে, পদ্মার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শাখা নদীতেও অব্যহতভাবে পানি বাড়ছে। পদ্মা নদীতে যেভাবে পানি বাড়ছে, তা অব্যাহত থাকলে ২উপজেলার অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। পদ্মার পানি বাড়ায় গড়াই নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের নিচু অঞ্চলগুলোতে পানি ঢুকে পড়েছে। এদিকে, পদ্মার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু এলাকায় নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের মূলুকচাঁদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নৈমূল হক জানান, ‘বর্তমানে পদ্মা নদীতে পানি যেভাবে বাড়ছিলো রোববার থেকে সে ভাবে পানি বৃদ্ধি পা”্ছে না।
দৌলতপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সাইদুর রহমান জানান, তাৎনিক দুই ইউনিয়নে ১৩ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।
ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শান্তি মনি চাকমা বলেন, ১ টি ইউনিয়নে ৪ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুজিব উল ফেরদৌস জানান, ‘পানি বাড়ার পর কি পরিমান য়তি হচ্ছে তার একটি হিসাব করা হচ্ছে।’ ইতিমধ্যে ত্রানের চাল পাঠানো হয়েছে। পানি নামার পর কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। এছাড়া গৃহ নির্মানের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা করা হবে।

No comments

Powered by Blogger.