ভেড়ামারায় বখাটের হাতে খুন হলেন প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ ২ জন ॥ সেই স্কুল শিক্ষককের ভাইও মারা গেলেন


কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বখাটের হাতে খুন হলেন মজিবুর রহমান সর্দার(৭০) নামে এক অবসরপ্রাপ্ত প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষক। ২ দিন পর বুধবার ভোর রাতে গুরুতর আহত মিজানুর রহমান সর্দার (৫৮) রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে। আংশকাজনক অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়েছিলো। পুলিশ নিশ্চিত করেছে ইভটিজিং এর ঘটনায় বখাটের হাতে ২জন খুন হয়েছেন। তবে কোন আসামী বুধবার পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি। ৮ জনকে আসামী করে ভেড়ামারা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। মামলা নং-১৭ তাং ২৬-০৪-১৬ ইং।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ভেড়ামারার ৮ম শ্রেণী পড়–য়া নাতনীকে মাঝে মধ্যে উত্তোক্ত করতো একই এলাকার মৃত আইয়ুব মালিথার ছেলে আরিফুর রহমান আরিফ। উত্তোক্ত করতে নিষেধ করে শিক্ষক মজিবর রহমান। তারপরেও এমন উত্তোক্ত’র ঘটনা ঘটলে সোমবার সকালে সালিশ করে প্রশাসনের সহযোগীতা নিয়ে বিষয়টির সমাধান করেন এলাকার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। এ ঘটনায় ক্ষুদ্ধ হয় বখাটে আরিফ। এরপর ওই দিন সোমবার রাতেই  উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নের ফকিরাবাদ সর্দ্দার পাড়া গ্রামের বাসিন্দা ফকিরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মজিবুর রহমান সর্দার ও তার মেজ ভাই মিজানুর রহমান সর্দার এবং ছোট ভাই মিনারুল ইসলাম সর্দার মসজিদ থেকে এশার নামাজ আদায় করে বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে বখাটে আরিফসহ তার সহযোগীরা অর্তকীত তাদের উপর হামলা চালায়। এ সময় বখাটে আরিফ ও তার সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুই ভাইকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান শিক্ষক মজিবুর রহমান। গুরুতর আহত হন তার মেজ ভাই ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান এবং পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় ছোট ভাই মিনারুল ইসলাম। ২ দিন পর বুধবার ভোর রাতে গুরুতর আহত মিজানুর রহমান সর্দার (৫৮) রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে।
অবশেষে মৃত্যুও কাছে হার মেনেছেন মিজানুর রহমান। মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে তিনিও চলে গেছেন না ফেরার দেশে। নাতনীকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় মিজানুর রহমান ও তার ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক মজিবর রহমান মাস্টারকে উত্যক্তকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলাপাথাড়িভাবে আঘাত করে। ঘটনাস্থলেই মারা যান মজিবর রহমান। গুরুতর আহত হন মিজানুর রহমান।
এদিকে পর পর দুই ভাইয়ের মৃত্যুতে তাদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত পরিবারের লোকজন ও তাদের আত্মীয়স্বজনের আহাজারীতে ভারী হয়ে উঠছে পুরো এলাকা।
গুরুতর আহত মিজানুর রহমানকে প্রথমে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ও পরে রাজশাহী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ছোট ভাই ও প্রত্যক্ষদর্শী মিনারুল ইসলাম জানান, আমার বড় ভাই এর ছেলে রতনের মেয়েকে আরিফ সহ তা সহযোগীরা মাঝে মধ্যেই উত্ত্যোক্ত করতো। এ বিষয়ে আমার বড় ভাই উত্তোক্ত করতে নিষেধ করায় গত সোমবার রাতে এশার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ক্ষিপ্ত হয়ে উত্তোক্তকারী আরিফসহ তার সহযোগীরা অর্তকীত ভাবে আমাদের উপর হামলা চালায়। এসময় আমি কোন রকম পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও আমার বড় ভাই ও মেজ ভাইকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। ঘটনাস্থলেই বড় ভাই স্কুল শিক্ষক মজিবুর রহমান মারা যায় এবং মেজ ভাই মিজানুর রহমানকে আংশকাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বুধবার ভোর রাতে মিজানুর রহমানের মৃত্যু হয়েছে।
নিহত মজিবুর রহমানের ভাগ্নে ভেড়ামারা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শাজাহান আলী বলেন, মিজানুর রহমানের নাতনীকে একই এলাকার মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে আরিফুল ইসলামসহ তার কয়েকজন সহযোগী উত্ত্যক্ত করে আসছিল। আমার মামা মজিবুর রহমান উত্তোক্ত করায় ক্ষুব্ধ হয়ে আরিফুল ইসলাম ও তার সহযোগী একই এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে নয়ন, নূর মালিথার ছেলে কমলসহ লালিম, কবি, ছুনারুল,আশরাফ, নবা ও শিহাবসহ আরও অনেকে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এদের মধ্যে আরিফের ফুফাতো ভাই নয়ন ডাকাতিসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামী।
ভেড়ামারা থানার ওসি নূর হোসেন খন্দকার জানান, ইভটিজিং এর ঘটনার কারনে বখাটের হাতে স্কুল শিক্ষক মজিবুর রহমান ও মিজানুর রহমান খুন হয়েছে। এ ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মামলার দায়ের হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Post a Comment

0 Comments