ভেড়ামারা পাবনা সুইট’র বিষাক্ত দই খেয়ে ৭০ জন অসুস্থ


 কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা শহরের রেলবাজার বণিক সমিতি এলাকার অবস্থি পাবনা সুইট’র বিষাক্ত দই খেয়ে অন্তত ৭০ জন অসুস্থ্য হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে বয়স্ক ও শিশুসহ ২০ জনের অবস্থা আশংকা জনক। পাবনা সুইট’র মালিক মালিক শ্যামল পলাতক রয়েছে। দোকান বন্ধ করে দিয়েছে এলাকাবাসী। এ রির্পোট লেখা পর্ষন্ত ভেড়ামারা থানা পুলিশ পাবনা সুইট’র মালিক শ্যামল কে আটক করতে পারেনী। শনিবার রাত ১০টার সময়   ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজাউল করিম ও ভেড়ামারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আশিষ বিন হাসান ভেড়ামারা হাসপাতালে রোগীদের সাথে দেখা করেন এবং তাদের খোজ নেন।

ভেড়ামারা মডেল থানা, এলাকাবাসী ও হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার ভেড়ামারার ফারাকপুর গ্রামের আব্দুল বারি’র ছেলে আরিফুল ইসলাম আরিফ’র ছিল বিবাহ অনুষ্ঠান। এ উপলক্ষ্যে দুপুরে প্রীতি ভোজের আয়োজন করা হয়। খাবার শেষে পরিবেশন করা হয় পাবনা সুইটের দই। এতেই বিষাক্ত দই ফুড পয়জনিং হয়ে গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে পড়ে আমন্ত্রিত অতিথিরা। দই খাওয়ার পর শনিবার সন্ধ্যা থেকেই শুরু বিষক্রিয়া। রাত সাড়ে ৯টা থেকে গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হতে থাকে।  উক্ত অনুষ্ঠানে দাওয়াতি ও কন্যার বাড়ির লোকজন পাবনা সুইট’র বিষাক্ত দই খেয়ে অন্তত ৭০ জন অসুস্থ্য হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। অসুস্থ্যদের কে ভেড়ামারা ওদৌলতপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।  এদের মধ্যে শিশুসহ ২০ জনের অবস্থা আশংকা জনক। গুরতর অসু¯রা হলেন, ভেড়ামারা ফারাকপুর এলাকার মাহাবুল ইসলামের ছেলে শাহিন (৮), মৃত কফিল উদ্দিনের ছেলে জফির উদ্দিন শাহ (৮৫), রফিকুল ইসলামের ছেলে সাজেদুল ইসলাম রোহান (৪), সাঈদেরে মেয়ে সামিয়া (৩), মাজেদুল ইসলামের  মেয়ে মারিয়া(৭), সালামের ছেলে এজাজা (৬), ফারুকের মেয়ে সুমুইয়া (৩), তরিকুল ইসলামের স্ত্রী  হ্যাপি (২৫), মেয়ে অর্পন (৩), তরিকুল ইসলাম (৪৫), সুমনের মেয়ে মিনা (৩), মুসার ছেলে সালমা (৯)মৃত সামাদের ছেলে রজনী (১৫) রবিউল ইসলামের ছেলে সিয়াম (১০), রাফিউল ইসলামের ছেলে শান্ত (৭) মোহাম্মদের ছেলে নাজিম(৩) রোহান (১০) ।
আব্দুল বারি’র পুত্র দই ক্রেতা শরিফুল ইসলাম জানান, ভেড়ামারার পাবনা সুইট’স মালিক শ্যামল এর কাছ থেকে ৩’শ ১৫ পিচ প্লাষ্টিক গ্লাসের দই ক্রয় করি এবং অনুষ্ঠানে অতিথিদের মাঝে খাবারের পাশাপাশি দই পরিবেশন করি। দই খেয়েই সন্ধ্যার পর থেকে অনেক অতিথিরাই অসুস্থ হয়ে পড়ে।
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পারভেজ ইসলাম বলেন, শনিবার ফারাকপুর রেল গেট এলাকায় বৌ-ভাত অনুষ্ঠানে খাওয়া-দাওয়া করে তারা। এরপর সন্ধ্যার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
ভেড়ামারা হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ নাজিম উদ্দিন জানান, বিষাক্ত দই খেয়ে অসুস্থ্য হয়েছে রোগীরা । এদের মধ্যে শিশুদের অবস্থা আশংকাজন। তারা দই খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তারা প্রত্যেকেই বমি এবং পাতলা পায়খানা রোগে আক্রান্ত হয়।
ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজাউল করিম বলেন, “যে হোটেল থেকে খাবার কিনা হয়েছে সেই হোটেলের মালিক, কর্মচারীসহ জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।”

Post a Comment

0 Comments