কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিএনপি জাসদ ও জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থীদের ভোট বর্জন ॥ সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ১০

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব বিস্তার ভোট কেন্দ্র দখল, ভোট কেন্দ্রে যেতে ভোটারদের বাধাপ্রদান ও নেতা কর্মীদের ওপর আওয়ামী প্রার্থীর ক্যাডারদের হামলার কারনে দৌলতপুরে বিএনপি, জাসদ ও জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থীরা ভোট বর্জনের ঘোষনা দিয়েছেন। ভোট কেন্দ্র দখল ও ব্যাপক কারচুপির মধ্যে দিয়ে বিকাল ৪টার সময় ভোট গ্রহন সম্পন্ন হয়েছে। দৌলতপুর উপজেলার বাহিরমাদী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র দখলে নেওয়ার সময় দু’প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ সদস্যসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে পুলিশের গুলিতে ২ জন আহত হয়েছে।

রবিবার বেলা ১১ টায় জাতীয় পার্টি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আলী আকবর   আল্লারদর্গায় নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে দৌলতপুর আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতা রেজাউল হক চৌধুরী মনোনীত প্রার্থী ও আওয়ামীলীগের একাংশের যুগ্ম আহবায়ক ফিরোজ আল মামুনের ক্যাডার বাহিনী কর্তৃক ভোট কেন্দ্র দখল, তার নির্বাচনী এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া এবং জোর করে হেলিকপ্টার প্রতীকে ভোট মেরে নেবার প্রতিবাদে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। বেলা ২ টার দিকে ১৯ দল ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল হক মঙ্গল সরকার তারাগুনিয়া দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ভোট কেন্দ্র দখল, ভোট কেন্দ্রে যেতে বাধাপ্রদান ও নেতা কর্মীদের ওপর আওয়ামী প্রার্থীর ক্যাডারদের হামলার কারনে ভোট বর্জনের ঘোষনা দেন। এসময় উপজেলা বিএনপি‘র সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা উপস্থিত ছিলেন। বেলা সাড়ে ৩ টায় জাসদ সমর্থিত প্রার্থী উপজেলা জাসদের যুগ্ম আহবায়ক ও কেন্দ্রীয় যুবজোটের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল কবীর স্বপন দৌলতপুর থানা বাজার কার্যালয়ে একই কারনে ভোট বর্জনের ঘোষনা দিয়েছেন।
পুলিশ, এলাকাবাসী ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বেলা সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়া দৌলতপুরের বাহিরমাদী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র দখল নেয়ার চেষ্টাকালে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ফিরোজ আল মামুন (হেলিকপ্টার প্রতীক) ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী শহিদুল ইসলাম মঙ্গল সরকারের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ২০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এ সময় পুলিশের গুলিতে সোহেল সর্দার (২৫) ও পুলিশের মোবাইল টিমের গাড়ী চালক সোহাগ (১৯) গুলিবিদ্ধ হন এবং ইটপাটকেলের আঘাতে ৩ পুলিশসহ অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। এ সময় আধাঘন্টা ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল।
কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার মফিজ উদ্দিন আহমেদ জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আধাঘন্টা পরে পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এ ব্যাপারে এক জনকে আটক করা হয়েছে।

Post a Comment

0 Comments