ভেড়ামারার লালন শাহ সেতু ও হার্ডিঞ্জ ব্রীজের নিচে পদ্মার পানি শূন্য

৩০ বছর চুক্তি অনুযায়ী ভারত সরকার ৪৪ হাজার ১’শ ২১ কিউসেক পানি বেশী দেখানো হলেও বাস্তব চিত্র উল্টো। পানি নেই এক কালের প্রমত্তা পদ্মা নদীতে। লালন শাহ সেতু ও হার্ডিঞ্জ ব্রীজ’র বুক জুড়ে জেগে উঠেছে বিশাল বিশাল বালুচর। ব্রীজের ১৫টি গার্ডারের মধ্যে এখন ৯টি গার্ডারই পানি শুন্য। যৌথ নদী কমিশনের ওয়েব সাইটে ১লা জানুয়ারী থেকে ২১ জানুয়ারী পর্যন্ত ২ চক্রে দেওয়া তথ্যে পানির এ হিসাব পাওয়া গেছে। শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গা নদীর পানি ভাগাভাগির লক্ষে ১৯৯৬ সালে ভারত সরকারের সাথে ৩০ বছর মেয়াদী পানি চুক্তি করে বাংলাদেশ। কোন চক্রে বাংলাদেশ কি পরিমান পানি পাবে তাও চুক্তিতে উল্ল্যে¬¬খ রয়েছে।

প্রতি বছর ১ জানুয়ারী থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পানি বন্টন কার্যক্রম শুরু হয়ে থাকে। যৌথ নদী কমিশনের পক্ষ থেকেইে পানি বন্টন পর্যবেক্ষন করা হয়। উভয় দেশের একটি প্রতিনিধি দল ফারাক্কা পয়েন্টে এই পানি বন্টন কার্যক্রম পর্যবেক্ষন করতে পাঁচ মাস সেখানে অবস্থান করেন। মে‘র ৩০ তারিখ পর্যন্ত এই বন্টন কার্যক্রম চলে। চলতি বছরও ১ জানুয়ারীতে এ বন্টন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের ৫ সদস্যের বিশেষজ্ঞ টিম ভেড়ামারার পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টের ৮ হাজার ফিট আপে এই পানির পরিমাপ ও পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে। ভারতের প্রতিনিধি দলে রয়েছেন সে দেশের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস কে চতুর্বেদী ও সহকারী প্রকৌশলী জি ভেন্যু গোপাল এবং বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে রয়েছেন পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রোলজি বিভাগ নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রইচ উদ্দিন ও শাখা অফিসার মোফাজ্জল  হোসেন।
চুক্তি অনুযায়ী এবার বাংলাদেশ জানুয়ারীর প্রথম ১০ দিনে পেয়েছে ৯১ হাজার ৫’শ ৮৯ কিউসেক পানি। পানি বন্টন চুক্তির সংলগ্নি ২ এর ইন্ডিকেটিভ অনুযায়ী বাংলাদেশ পাওয়ার কথা ৬৭ হাজার ৫১৬ কিউসেক পানি। এ হিসেবে ভারত বাংলাদেশ কে প্রথম চক্রেই ২৪ হজার ৭৩ কিউসেক পানি বেশী দিয়েছে। চুক্তির ধারা অনুযায়ী ফারাক্কা পয়েন্টে ভারতকে ৪০ বছরের গড় পানিপ্রবাহ অর্থ্যাৎ ১ লাখ ৭ হাজার ৫১৬ কিউসেক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার কথা। এবার পানির প্রবাহ বেশীই দেখিয়েছে ভারত। ১১ জানুয়ারী থেকে ২০ জানুয়ারী ২য় চক্রে বাংলাদেশের হিস্যা ছিল ৫৭ হাজার ৬’শ ৭৩ কিউসেক পানি। কিন্তু যৌথ নদী কমিশনের ওয়েব সাইটে দেওয়া তথ্যে দেখা গেছে এসময় পাওয়া গছে ৭৭ হাজার ৭’শ ২১ কিউসেক পানি। চুক্তির থেকেও ২০ হাজার ৪৮ কিউসেক পানি বেশী পাওয়া গেছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র উল্টো। পানি নেই পদ্মা নদীতে। হার্ডিঞ্জ ব্রীজ দাঁড়িয়ে আছে ধু-ধু বালুর উপর। ১৫টি গার্ডারের মধ্যে এখন ৯টি গার্ডারই পানি শুন্য। গার্ডারের পাশ দিয়েই জেগে উঠেছে বিশাল বালুচর। এছাড়াও স্থান ভেদে জেগে উঠেছে বিশাল বিশাল বালুচর। বালুর চরে চিনা বাদাম আবাদ করছে।

Post a Comment

0 Comments