কুষ্টিয়ায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সেক্রেটারি দুলাল নিহত

 চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক : কুষ্টিয়া জেলা বাস মিনিবাস মালিকসমিতির সাধারন সম্পাদক ও চেম্বারের পরিচালক নুর হোসেন দুলাল দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছে। শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহরের হাউজিং সি ব্লকের বাসার পাশেই এ ঘটনা ঘটে। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসার পর রাত ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষনা করে। নিহতের পরিবার সুত্র জানিয়েছে, রাতে কাজ শেষে শহর থেকে মটরসাইকেল যোগে বাসায় ফিরছিলেন নুর হোসেন দুলাল। হাউজিং ঈদগাহ এলাকায় আসার পর কয়েকজন তার গতিরোধ করে। এসময় সন্ত্রাসীরা খুব কাছ থেকে পর পর তিন রাউন্ড গুলি করে দুলালকে লক্ষ্য করে। মাথা ও বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে তাকে। রাত সাড়ে ১০টার পর চিকিৎসকরা দুলালকে মৃত ঘোষনা করেন। নুর হোসেন দুলাল জামায়াতের শ্রমিক সংগঠন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যান ফেডারশনের কুষ্টিয়া শহর কমিটির সহ ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্সের পরিচালকও ছিলেন তিনি। নিহত দুলাল হাউজিং এলাকার সিফাতুল্লাহর ছেলে। পরিবারের সদস্যরা জানান, তাদের জানা মতে কারও সঙ্গে তার কোন ব্যাক্তিগত বিরোধ ছিল না। তবে বাস মিনিবাস মালিক সমিতির নির্বাচন নিয়ে কিছু সমস্যা ছিল। নির্বাচন নিয়ে
কয়েকজনের সঙ্গে মনমালিন্য চলছিল। তবে গত কয়েক দিন তার বাসায় চুরি হয়। এ ঘটনায় প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল খোয়া যায়। এ ঘটনায় থানায় জিডি করেন তিনি। এসব ঘটনায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরিবহনের এক নেতা জানান, হাউজিং এলাকার এক সন্ত্রাসীর সঙ্গে তার ঝামেলা ছিল। এ কারনে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। ওই সন্ত্রাসী এক ছাত্রলীগ নেতার ভাগ্নে বলে জানান তিনি। ওই সন্ত্রাসীর চরমপন্থি সংগঠন গনমুক্তিফৌজের রাজনীতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও এলাকার লোকজন জানিয়েছে। এদিকে পরিবহন নেতা দুলাল নিহতের খবর পেয়ে ছুটে যান সমিতির নেতাসহ পরিবহন মালিকরা। অনেকেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তারা বলেন, দুলালদের সঙ্গে সবার ভাল সম্পর্ক ছিল। এ মৃত্যু তারা মেনে নিতে পারছেন না। এদিকে এ ঘটনার পর পুলিশ শহরে চেকপোষ্ট বসিয়ে তল্লাশী অভিযান পরিচালনা করে। তকে হত্যার সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ সুপার মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ জানান, কি কারনে দুলালকে হত্যা করা হয়েছে তার সঠিক কারন এই মুহুর্তে বলা যাচ্ছে না। তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ব্যবস্থা নেয়া হবে। এর আগে গত ৮ ডিসেম্বর একইভাবে মোটরসাইকেল যোগে এসে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জগন্নাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের একাধিকবার নির্বাচিত জনপ্রিয় চেয়ারম্যান মুন্সী রশিদুর রহমানকে দুবৃত্তরা গুলি করে হত্যা করে নির্বিঘেœ পালিয়ে যায়।

Post a Comment

0 Comments